টাঙ্গাইল শহরের ঐতিহ্যবাহী শ্যামা বাবু খালের উপর নির্মিত কালভার্টের সাটারিং এ কাঠের পরিরবর্তে বাঁশ ব্যবহার করায় ঢালাই এর সময় ধ্বসে যায়। এ ঘটনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এ ঘটনায় অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগকৃত কার্যসহকারি আব্দুল আওয়ালকে চাকরিচ্যুত ও সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. নাজমুল হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এদিকে এ ঘটনায় গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভুরাম পালকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান। কমিটি’র সদস্য সচিব এলজিইজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহনাজ পারভীন ও সদস্য করা হয়েছে জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলামকে। কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্তের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
জানা যায়, ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫৪ টাকা ব্যয়ে খালের উপর কালভার্ট নির্মানের জন্য এফ এ ট্রেডার্স নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় টাঙ্গাইল পৌরসভা। নির্মিত কালভার্টের সাটারিং কাঠের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই করার সময় গত বুধবার ধ্বসে যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পৌর প্রশাসককে নির্দেশ দেন। এরপর টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। এছাড়াও কার্যসহকারীকে চাকরিচ্যুত ও সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।
সরেজমিন শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক পুনরায় সাটারিং এর কাজ করছেন। বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে ধ্বসে যাওয়ার বিষয়টি জানতে চাচ্ছেন।
হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, বাজারের কালভার্টটি খুব ধীর গতিতে কাজ হচ্ছে। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার ব্যবসায়ীর চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অপর দিকে কাজের মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান রেজাউল করিম বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দিলে মূল বিষয়টি জানা যাবে। তবে এখনও ঠিকাদারকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিমন্ত্রী সুরতান সালাউদ্দিন টুকু মহোদয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন। এর পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষনিক কাজ বন্ধ করা হয়েছে। নতুনে সাটারিং করে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই সাথে অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য পৌরসভা পৌরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন বাসাইল উপজেলায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যা তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় তারা মোবাইল ফোনে কাজটির ভিডিও ধারণ করে। স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর আবার রাতে কাজ শুরু করে ঢালাই শেষ করা হয়। পরে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেতুটি পরিদর্শন ও তদন্তের উদ্যোগ নেয়। সেতুতে বাঁশ কাণ্ডের ঘটনাটি সারাদেশে বেশ আলোচনার কেন্দুবিন্দুতে পরিণত হয়। এঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। দফায় দফায় চলছে তদন্ত। এ ঘটনায় মামলার পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দুদকও সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করে।
পড়ুন : সিরাজগঞ্জে সরকারি খেলার মাঠে ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ, দখলমুক্ত করলেন প্রশাসন


