দুর্গাপূজার আনন্দের মধ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে ভারতের কলকাতায়। উত্তর কলকাতার একটি জনপ্রিয় পূজামণ্ডপে প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক থানা এলাকার সারদা পার্কের (চোরবাগান) পূজামণ্ডপের প্রস্থান পথে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মণ্ডপের সংকীর্ণ প্রবেশ ও প্রস্থান পথ পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছিল।
কলকাতা পুলিশ এ নিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছে, “আজ ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে গিরিশ পার্ক থানার চোরবাগান সার্বজনিন পূজার প্যান্ডেলের বের হওয়ার গেটে পদদলনের ঘটনা ঘটে। ওই সময় সেখানে ব্যাপক বৃষ্টি হওয়ায় প্যান্ডেলের ভেতর সাধারণ মানুষের প্রচুর ভিড় হয়। তখনই অনেকে পদদলিত হন। আহত সবাইকে উদ্ধার করে এমসিএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হওয়ার পর প্যান্ডেলটি এখন দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তাসংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, পদদলনের সময় অনেক মানুষ জ্ঞান হারান। এরপর তাদের মোটরসাইকেল ও অন্যান্য বাহনে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেছেন, “প্যান্ডেলে ঢোকার গেটটি অনেক সরু ছিল, বের হওয়ার গেটটিও সরু ছিল। ওই এলাকায় কোনো লাইটিংও ছিল না। আমার মেয়ে ও নাতি আহত হয়ে হাসপাতালে আছে।”
ঘটনার ভয়াবহতা বেশি হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল হাসপাতালে ছুটে গেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মর্মান্তিক এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
অপরদিকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
তিনি মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে লিখেছেন, “চোরবাগান পূজা প্যান্ডেলে পদদলনের ঘটনা জানতে পেরে আমি অত্যন্ত ব্যথিত ও দুঃখিত। আমি মা দুর্গার কাছে সব আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং হতাহতদের পরিবারের প্রতি এই শোক সওয়ার মতো শক্তি কামনা করছি।”
সূত্র: এনডিটিভি
পড়ুন : ঢাকা-রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত


