সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও দিল্লির দাসত্ব নিয়ে রুহুল কবির রিজভীর কড়া সমালোচনা

১৬-১৭ বছর ধরে নানা কৌশলে দেশকে একমুখী করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে এবং নীরবে-নিভৃতে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, এই সময়ে স্বাধীনতার কথা বারবার বলা হলেও মূলত দিল্লির দাসত্বই করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এটি বুঝতে না পারলেও দেশের তরুণ সমাজ ঠিকই তা উপলব্ধি করতে পেরেছিল।

বিজ্ঞাপন

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে ‘লালসাইয়ের তিরোধানের ১৩৬তম দিবস’ উপলক্ষ্যে কালচার ফর ইউনিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে এনে তাদের গান প্রচার করা হয়েছে এবং তৎকালীন সরকারের প্রধানের চেষ্টায় দেশের সিনেমা হলে বিনা বাধায় ভারতীয় সিনেমা চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। অথচ বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা এর কোনো জোরালো প্রতিবাদ করেননি। সাবেক রেজিমের প্রধানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, তৎকালীন শাসক অহংকার করে বলেছিলেন—‘আমি যা দিয়েছি, তারা কোনোদিন ভুলবে না।’ এ সময় দলীয় সিস্টার অর্গানাইজেশন ও সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে সার্বভৌমত্বকে ধীরে ধীরে দুর্বল করার চক্রান্ত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ঢাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সালাম, বিটিভির পরিচালক কাজী জেসিন ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দুর্গাপূজা ও সম্প্রীতির বার্তা

এদিকে শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার উপলক্ষ।

নবান্নের এই দেশে কোনো উৎসবই নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে আটকে থাকে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও উৎসবের আনন্দ সবাইকে একসূত্রে বাঁধে। শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি পূজার মেলার আনন্দ এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার প্রতীকী তাৎপর্যের কথা তুলে ধরেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবির কথা উল্লেখ করে রিজভী জানান, পূজায় তিন দিনের ছুটির পরিবর্তে পাঁচ দিনের ছুটি, প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ, মাসিক আট হাজার টাকা আর্থিক অনুদান এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই এক মাস আগে থেকে পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিরোধীদের সমালোচনা ও জাতীয় প্রসঙ্গ

অন্যদিকে, শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (জেটেব)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন, নিজেদের দলীয় কোন্দল ও ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধী দল রাজপথে নতুন নাটক ও আন্দোলনের বাহানা খুঁজছে। দেশ যখন সংকট মোকাবিলা করছে, তখন গঠনমূলক ভূমিকা না রেখে তারা কেবল ‘নাই নাই’ জিকির তুলছে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে স্বৈরাচারী শাসকদের যেভাবে জনগণ তাড়িয়েছে, তেমনি কোনো অন্যায় ও অপরাধ এ দেশে ছাড় পাবে না। আইন ও আদালতের মাধ্যমেই সব হত্যার ও অন্যায়ের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।

জেটেবের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াজ উদ্দিন মিশু, জাহানারা সিদ্দিকী, রকিবুল ইসলাম, কাজী সাখাওয়াত, ডা. জাহিদুর রহমান ও ডা. তাওহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।

পড়ুন : প্রতিবন্ধীদের দাবি বাস্তবায়নে নেয়া হচ্ছে কার্যকর উদ্যোগ…

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন