বিএনপি অ্যাক্টিভিস্টরা এখন বিপদে পড়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বিএনপির অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিপদে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টা ১৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন:

“বিএনপি অ্যাক্টিভিস্টরা পড়েছেন বিপদে। গতকাল (শনিবার) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনেরর কাজকে বাহবা দিয়ে লিখতে হলো, আবার আজকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে বাহবা দিয়ে লিখতে হলো। লিখতে না লিখতেই জানা গেলো পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ভুয়া। এখন আবার লিখতে হবে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে না বলা কেনো ভালো হয়েছে সেটি।”

তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনাক্রমের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজের দলের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা সেসব সঙ্গীদের চিনে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, যারা তাঁর পদত্যাগের খবরে আনন্দিত ও উল্লাসিত হয়েছিলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও মন্তব্য করেন: “এখন প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের উচিত হবে পূর্ণমন্ত্রী জনাব পার্থের পদত্যাগ দাবি করা। এই মিডিয়া ক্যুর পিছনে উনার হাত আছে কি-না খতিয়ে দেখা উচিত।”

এর আগে রোববার রাতে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ (বিটিভি) কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। একটি জাতীয় গণমাধ্যম উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে এই নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এই কথিত নির্দেশনার খবরটি চাউর হওয়ার পর তাকে সমর্থন জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন:

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সাহসী সিদ্ধান্ত সাধুবাদ যোগ্য। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল এখান থেকে শিক্ষা নিবে সেই প্রত্যাশা করি।’

তবে ইশরাকের পদত্যাগের খবরটিকে সম্পূর্ণ ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই খবরটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। যদিও এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে তখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ঘটনার মূল সূত্রপাত হয়েছিল শনিবার (১৭ অক্টোবর)। ওই দিন রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিজ উদ্যোগে একটি মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযানে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। পরবর্তীতে সেই অভিযানের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে, যা থেকেই মূলত এই পদত্যাগ গুঞ্জনের সূত্রপাত হয়।

পড়ুন : আজ দুপুরে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন ইশরাক হোসেন

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন