কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটি নিয়ে ভুয়া সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটি নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আজ সোমবার দুপুর বারোটায় কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের আব্দুর রাজ্জাক মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এই সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা যুবদলের সভাপতি ফাহিম রেজা ফুয়াদ।
লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের একটি তারুণ্যনির্ভর ও শক্তিশালী কমিটি উপহার দিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদল। এই কমিটি নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত পদ বঞ্চিতরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ওই সব ফেসবুক আইডি থেকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমনকি নবগঠিত কমিটির সভাপতি ফুয়াদ রেজা ফাহিম কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সঙ্গে ব্যাংককে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে টাকা লেনদেন করেছেন বলেও প্রচার করা হচ্ছে। আবার একই ভিডিওতে বলা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামানের মাধ্যমে এই অর্থ লেনদেন হয়েছে।

জেলা যুবদল সভাপতি বলেন,আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের কমিটি গঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটেনি। অথচ কোনো প্রামাণ্য তথ্য উপস্থাপন না করে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ প্রচার করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমার ব্যাংকক সফরকে কেন্দ্র করে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা আপনাদের সামনে পরিষ্কার করতে চাই। আমি ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রয়োজনে গিয়েছিলাম। সেখানে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ভাইয়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়। ওই সময় তাঁর সঙ্গে আমার একটি ছবি তোলা হয়। হাসপাতালে যাওয়া ও চিকিৎসা গ্রহণের সকল কাগজ আমার কাছে রয়েছে। একটি স্বাভাবিক সাক্ষাৎ ও ছবি তোলার ঘটনাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অর্থ লেনদেনের গল্পে রূপ দেওয়া হয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলতে চাই, কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেন, তাহলে তিনি যেন সেই অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেন। অনুমান, গুজব কিংবা সম্পাদিত ভিডিওর মাধ্যমে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, আমার রাজনৈতিক অতীত ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা নিয়েও মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, গত ১৭ বছরে আমি কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করিনি। এই বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য। আমি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয়ভাবে রাজপথে ছিলাম। জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তি ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দলের সঙ্গে থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করেছি। আমার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের ছবি এবং অন্যান্য প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

জেলা যুবদল সভাপতি আরো বলেন, আমরা মনে করি, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মতভিন্নতা থাকতে পারে। কারও প্রত্যাশা পূরণ না হলে তাঁর হতাশাও থাকতে পারে। কিন্তু সেই হতাশা থেকে যদি কেউ মিথ্যা তথ্য ছড়ান, ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন কিংবা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ তোলেন, তাহলে তা সংগঠনের ঐক্য ও শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর।

এ সময় জেলা যুবদলের সহ সভাপতি জাকারিয়া মিলন, মুস্তাফিজুর রহমান সুমন, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাক্কির রহমান রাব্বি সহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পড়ুন : জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন