মেলান্দহে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ

জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত শতাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে নিজেদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছেন উদ্যোক্তারা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।

সৌরবিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব, শব্দদূষণমুক্ত এবং দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী হওয়ায় এ ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বাড়ির ছাদ, টিনের ঘর কিংবা খোলা জায়গায় উপযুক্ত কাঠামো তৈরি করে সৌর প্যানেল স্থাপন করা যায়। উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগও রয়েছে।

উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের আগপয়লা গ্রামের সৌরবিদ্যুৎ উদ্যোক্তা হাফিজুর রহমান বিএসসি জানান, পল্লী বিদ্যুতের সঙ্গে চুক্তির আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করছেন তিনি। নিজের চাহিদা পূরণের পর মাসে ১হাজার ৩ শত ইউনিট বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

হাফিজুর রহমান বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এর সুফল পাওয়া যায়। তাঁর দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে বছরে প্রায় দুই লাখ টাকার মতো সাশ্রয় হচ্ছে। উৎপাদন ও বিক্রির হিসাব অনুকূলে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে প্রাথমিক বিনিয়োগের অর্থ উঠে আসতে পারে।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্যানেল, ইনভার্টার, স্থাপন কাঠামোসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম প্রয়োজন হয়। ব্যবস্থার ধরন অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংরক্ষণ, লোডশেডিংয়ের সময় বিকল্প সরবরাহ এবং জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের সুবিধা পাওয়া যায়। তবে স্থাপনের ব্যয়, উৎপাদনক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রপাতির স্থায়িত্ব প্রকল্পভেদে ভিন্ন হতে পারে।

উপজেলার সিড়িঘাট তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক মমিন হাজী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক খরচ কিছুটা বেশি হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিলে আরও কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

মেলান্দহ জোনের পল্লী বিদ্যুতের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোমিনুর রহমান বিশ্বাস জানান, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। পল্লী বিদ্যুতের কারিগরি সহায়তায় নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যায়। চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসাব সমন্বয় করা হয় এবং প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা থাকে।

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে কারিগরি সহায়তাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সোলারাইজড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক আক্তারুজ্জামান জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিকাজে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যবস্থার ধরন অনুযায়ী অফ-গ্রিড, অন-গ্রিড ও হাইব্রিড প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়। ব্যাটারিনির্ভর ব্যবস্থায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করা সম্ভব। অন্যদিকে, নেট মিটারিংয়ের আওতায় গ্রিড-সংযুক্ত সৌরব্যবস্থা থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়। সৌরচালিত সেচপাম্প কৃষকের বিদ্যুৎ ব্যয় কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, সরকারি-বেসরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে পরিকল্পিতভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথও সুগম হতে পারে।

তাঁদের মতে, সহজ শর্তে অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা, কার্যকর নীতিমালা ও বিদ্যুৎ কেনার নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মেলান্দহে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণ, চালকসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন