স্প্যানিশ লা লিগার অতি রোমাঞ্চকর এক এল ক্লাসিকোয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে তাদেরই মাঠে ২-১ গোলে পরাজিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলের সুবাদে স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে এই গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে হোসে মরিনিয়োর দল। এই পরাজয়ের মাধ্যমে চলতি লা লিগায় হান্সি ফ্লিকের দলের টানা নয় ম্যাচ জেতার শতভাগ রেকর্ড ও অপরাজিত যাত্রার অবসান ঘটল।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল বেশ সতর্ক হলেও রিয়াল মাদ্রিদ তুলনামূলক আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। মাঝমাঠে অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি ও বার্নার্দো সিলভার সক্রিয়তায় বার্সেলোনার আক্রমণগুলো আটকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠতে থাকে সফরকারীরা। ৩০তম মিনিটে চোট পেয়ে বার্সেলোনার তরুণ ডিফেন্ডার জাভি এসপার্ত মাঠ ছাড়লে তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন আলেহান্দ্রো বালদে। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে এসে ৪১ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় রিয়াল। বাঁ প্রান্ত থেকে মার্ক কুকুরেয়ার পাস বাড়ানো বলে ইয়ান দিয়োমান্দের নিচু ক্রস বিপদমুক্ত করতে গিয়ে ভুল করেন বার্সেলোনা ডিফেন্ডার জেরার্দ মার্তিন। তাঁর জোরালো ক্লিয়ারেন্স এমবাপ্পের গায়ে লেগে অপ্রত্যাশিতভাবে জালে জড়িয়ে গেলে ১-ই গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সফরকারীরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। ফলস্বরূপ, ৬১ মিনিটে ছোট করে নেওয়া কর্নার থেকে পেদ্রির বাড়ানো দারুণ এক পাস পেয়ে বক্সে নিচু শট নেন রাফিনিয়া। জুড বেলিংহামের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে যাওয়া সেই বল গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন ঠেকাতে ব্যর্থ হলে ১-১ সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। সমতা ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি স্বাগতিকেরা আরও বেশ কিছু আক্রমণ চালায়। ৬৬ মিনিটে কর্নার থেকে জেরার্দ মার্তিনের নেওয়া হেড অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দিয়ে রিয়ালকে রক্ষা করেন অসুস্থ থিবো কোর্তোয়ার পরিবর্তে মাঠে নামা ইউক্রেনীয় গোলরক্ষক লুনিন। এরপর লামিনে ইয়ামালও একাধিকবার ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি।
যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের ৮৭ মিনিটে আবারও ব্যবধান গড়ে দেন এমবাপ্পে। মাঝমাঠে জুড বেলিংহামের দারুণ নৈপুণ্য এবং এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার পাস থেকে ফাঁকা গোলপোস্টে বল পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের জয়সূচক গোলটি নিশ্চিত করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। চলতি ম্যাচে জোড়া গোল করার সুবাদে রিয়ালের জার্সিতে ১১৬ ম্যাচে ১০০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন তিনি। গোলের পর টাচলাইনে হাঁটু গেড়ে উদ্যাপনে মেতে ওঠেন কোচ মরিনহো।
ম্যাচ শেষে ডিএজেডএন-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বার্সেলোনার মিডফিল্ডার পেদ্রি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। প্রথমার্ধে আমরা নিজেদের মতো ছিলাম না। অনেক কিছুই আরও ভালো করতে পারতাম।’
নিষেধাজ্ঞার কারণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের টানা পঞ্চম জয়। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে প্যারিস সাঁ-জার্মেইয়ের কাছে ৪-২ গোলে হারের পর এল ক্লাসিকোয় এই পরাজয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা দ্বিতীয় হারের স্বাদ পেল কাতালান ক্লাবটি। গত দুই মৌসুমে শিরোপাহীন থাকার পর বার্সেলোনার আধিপত্য থামাতে ক্লাবের ভরসা হয়ে ওঠা অভিজ্ঞ পর্তুগিজ কোচ মরিনিয়োর অধীনে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পাচ্ছে রিয়াল।
এই জয়ের ফলে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে জমে উঠেছে শিরোপার লড়াই। দশ ম্যাচ শেষে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। অন্যদিকে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ এবং ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে রিয়াল মাদ্রিদ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মাঠে এই জয় রিয়ালকে শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
পড়ুন : স্পেন থেকে ফিরে মাঠে মেসি, তবু হারল মায়ামি
সা/


