ভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, প্রভাব বাংলাদেশেও

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার বেগের দমকা হাওয়া নিয়ে আঘাত হেনেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ভারতের মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ১টা ২০ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার কাছাকাছি পুদুচেরির ইয়ানাম এলাকায় ঘূর্ণিঝড়টির স্থলাংশে আঘাত হানার (ল্যান্ডফল) প্রক্রিয়া শুরু হয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোর থেকেও এর তাণ্ডবে উপকূলীয় অঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ল্যান্ডফলের সময় ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার থাকলেও দমকা হাওয়ায় তা ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। অতি প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের কাছে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে প্রায় স্থির অবস্থায় রয়েছে। গত তিন ঘণ্টায় এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে ঘণ্টায় মাত্র ৩ কিলোমিটার গতিতে ধীরলয়ে এগিয়েছে, তবে পরবর্তীতে তা উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে মোড় নিতে পারে। ঝড়টির উপকূলে আছড়ে পড়ার এই প্রক্রিয়া আরও কয়েক ঘণ্টা ধরে চলতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে সমুদ্রের স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১ থেকে ১.৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু জলোচ্ছ্বাস নিচু এলাকাগুলোতে প্রবেশ করার শঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিশাখাপত্তনমে সর্বোচ্চ ২১৬.৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া কলিঙ্গপত্তনমে ১৪৭.৫, টুনিতে ১২৩.৩, কাকিনাড়ায় ১১৮.৪, মাচিলিপত্তনমে ১১৫.২, নরসাপুরে ৪৮.৬, বাপটলায় ১৫.৯ এবং ওঙ্গোলে ০.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

ঝড়ের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং একাধিক বিমান সংস্থাও তাদের শিডিউল বাতিল করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থাসমূহের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছে।

ঝড়ে অন্ধ্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা কাকিনাড়ার এক অধিবাসী বার্তাসংস্থা এএনআইকে তাঁর দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন:

‘ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আমরা সবকিছু হারিয়েছি। আমাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। নতুন করে জীবন গড়ে তুলতে সরকার যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায় এবং আর্থিক সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়।’

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বাংলাদেশেও বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে—যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টির কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর, সমুদ্রবন্দর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

পড়ুন : বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিককে বাধ্য করে রুশ বাহিনীতে নিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন