গাইবান্ধা সদর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক সাধারণ নাগরিকের ছবি বিকৃত করে অত্যন্ত অবমাননাকরভাবে পোস্ট করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. রেজাউল করিম সাইবার অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের নিকট কঠোর আইনগত প্রতিকার চেয়েছেন।
জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর ‘আল আমিন কাজ কনস্ট্রাকশন’ নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে মো. রেজাউল করিমকে উদ্দেশ্য করে একটি কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টে একটি কুকুরের শরীরের সঙ্গে তাঁর দাড়িওয়ালা মুখের ছবি অত্যন্ত বিকৃতভাবে এডিট করে যুক্ত করা হয়। সেই সঙ্গে পোস্টটিতে একটি ব্যঙ্গাত্মক গানও ব্যবহার করা হয়। ভুক্তভোগী মো. রেজাউল করিম গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের রামনাথের ভিটা এলাকার (৪ নম্বর ওয়ার্ড) মৃত মহব্বত আলীর ছেলে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, তার ছেলে ফেসবুকে পোস্টটি দেখতে পেয়ে তাঁকে বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে তিনি সামাজিকভাবে চরম বিব্রত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মো. রেজাউল করিম বলেন, “একজন মানুষের সঙ্গে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তাই বলে তাঁর ছবি বিকৃত করে প্রাণীর অবয়বে উপস্থাপন করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া চরম বিকৃত মানসিকতার পরিচয়। আমার পরিবার আছে, আত্মীয়স্বজন আছে এবং সমাজে আমার চলাফেরা করতে হয়। এভাবে সম্মানহানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, তিনি কারও প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হতে চান না; বরং তিনি আইনের শাসন ও ন্যয়বিচার প্রত্যাশা করেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নাগরিক এভাবে সাইবার বুলিং ও হয়রানির শিকার না হন।
এছাড়াও তিনি প্রশাসনের কাছে চারটি দাবি উত্থাপিত করেন।
দাবি গুলো ১. ছবি বিকৃত করে প্রকাশ ও অপমানজনক বক্তব্য প্রচারের এই ঘটনাটি নিরপেক্ষ ও গভীরভাবে তদন্ত করতে হবে।
২. সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডি, মূল পোস্ট এবং ডিজিটাল আলামত যাচাই করে অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করতে হবে।
৩. ঘটনার সত্যতা সাপেক্ষে প্রচলিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বা সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন আর কোনো নাগরিককে এভাবে হেনস্তা ও হেয়প্রতিপন্ন করা না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও বিশিষ্টজনেরা এ ধরনের সাইবার অপরাধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে এবং সাধারণ মানুষের মানমর্যাদা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। ভুক্তভোগী পরিবার অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।
পড়ুন : ভেদরগঞ্জে ট্রলার বোঝাই ৫ মণ মা ইলিশ জব্দ


