স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মোট ১০৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং একই সময়ে হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে হামের উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৫১ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৪ জন। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ জনে।
চিকিৎসা ও সুস্থতার বিষয়ে জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত হামের উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৪৬৮ জন। এর মধ্যে একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩০১ জন।
হামের প্রধান প্রধান লক্ষণসমূহ:
স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যানুযায়ী, হামে আক্রান্ত হলে রোগীর দেহে নানা ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি লক্ষণ হলো:
তীব্র জ্বর: হামের শুরুতেই শরীর বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অনেক সময় এই জ্বর ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।
সর্দি ও কাশি: অনবরত হাঁচি দেওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং তীব্র শুকনো কাশি হওয়া হামের প্রাথমিক ও সাধারণ লক্ষণ।
চোখের সমস্যা: আক্রান্ত শিশুর চোখ লাল হয়ে যায়, অনবরত পানি পড়ে এবং আলোতে তাকালে চোখে তীব্র অস্বস্তি বা ব্যথার অনুভূতি হয়।
মুখের ভেতর সাদা দাগ (কপলিক স্পট): সাধারণত জ্বর আসার দুই থেকে তিন দিনের মাথায় মাড়ির পাশে বা গালের ভেতরের চামড়ায় ক্ষুদ্র লবণের দানার মতো সাদাটে দাগ ফুটে ওঠে।
লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ: জ্বর শুরু হওয়ার ৩ থেকে ৫ দিন পর প্রথম কানের পেছন ও মুখে লাল দানাদার ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পরবর্তীতে তা ঘাড়, বুক, পিঠ ও হাত-পাসহ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
শারীরিক দুর্বলতা ও অরুচি: পেশিতে ব্যথাসহ শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাবারের প্রতি তীব্র অরুচি তৈরি হয়। ক্ষেত্রবিশেষে পাতলা পায়খানা কিংবা বমিও হতে পারে।
পড়ুন : বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু নিয়ে এখনই কিছু বলতে চান না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সা/


