তিন ফরম্যাটেই একাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ড ইংলিসের, ‘এলিট লিস্টে’ আছেন যারা

আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক ব্যাটার জশ ইংলিস। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিত দেখা গেলেও টেস্ট ফরম্যাটে খুব একটা সুযোগ পান না তিনি। তবে সুযোগ পেলেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে ভুল করেন না এই ডানহাতি ব্যাটার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই একাধিক শতকের মালিকদের বিশেষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ইংলিস। ১৩৫ বলের ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও দুটি ছক্কা। টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই অন্তত দুটি করে সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েন তিনি। পুরুষ ও নারী ক্রিকেট মিলিয়ে এই বিশেষ তালিকায় জায়গা পেয়েছেন মাত্র ১৩ জন ক্রিকেটার।

ইংলিসের আগে পুরুষ ক্রিকেটে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন আরও ১১ জন। তারা হলেন পাকিস্তানের বাবর আজম, ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক ও জস বাটলার, দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল ও শাই হোপ, নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, ভারতের রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল এবং শ্রীলঙ্কার পাথুম নিশাঙ্কা।

অন্যদিকে নারী ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই একাধিক সেঞ্চুরি করেছেন ভারতের স্মৃতি মান্দানা। সম্প্রতি হারমানপ্রিত কৌরকে সরিয়ে ভারতীয় নারী দলের অধিনায়কত্বও পেয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের এই বিশেষ তালিকায় ইংলিসের নাম যুক্ত হওয়ায় নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট।

শুধু ব্যক্তিগত অর্জনেই নয়, ইংলিসের সেঞ্চুরি অস্ট্রেলিয়াকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচেও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে ৩২৯ রান করে অলআউট হয়। জবাবে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৪২৯ রান সংগ্রহ করে। এতে প্রথম ইনিংসে ১০০ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় সফরকারীরা।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ইংলিসের পাশাপাশি ব্যাট হাতে ভালো অবদান রেখেছেন আরও কয়েকজন। অ্যালেক্স ক্যারি ৮০ রান করেন। ম্যাট রেনশের ব্যাট থেকে আসে ৭৪ রান। এ ছাড়া ক্যামেরন গ্রিন করেন ৬৪ রান। সম্মিলিত ব্যাটিং নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ ছাড়িয়ে বড় লিড গড়ে তোলে অস্ট্রেলিয়া।

১০০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৪০ রান। ফলে দিন শেষে তাদের মোট লিড দাঁড়ায় ৪০ রান। স্বাগতিকদের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান করে আউট হয়েছেন মার্কেস অ্যাকারম্যান।

এই ইনিংসে আরও একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড গড়েছেন অ্যাকারম্যান। ২০০৮ সালে মেলবোর্নে গ্রায়েম স্মিথের পর প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একই টেস্টের দুই ইনিংসেই পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ৩০ বছর বয়সী এই ব্যাটার।

সব মিলিয়ে ইংলিসের সেঞ্চুরি যেমন ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে নতুন উচ্চতা যোগ করেছে, তেমনি অস্ট্রেলিয়াকেও ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। অন্যদিকে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে শেষ ইনিংসে লড়াই জমিয়ে তোলার চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

পড়ুন:১৫ মিনিটে তিন গোল, ১ হাজার গোলের আরও কাছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন