বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সৌরির মোটরসাইকেল উদ্ধার করল পিবিআই

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) টঙ্গী মাজার বস্তি এলাকা থেকে এটি উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানান, তাহসিফের মরদেহ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, তার ঠিক ৫০ গজ দূরেই মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়। তবে পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি সত্যিই তাহসিফের কি না, তা তারা যাচাই করে দেখছেন এবং এ ঘটনায় তারা নৌপুলিশকে তদন্তে সহায়তা করছেন।

এদিকে কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা করেনি তার পরিবার। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে বলে জানিয়েছেন নৌ পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম।

নৌ পুলিশ প্রধান জানান, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে পরিবার মামলা না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করবে।

এর আগে যার ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, সেই বন্ধুস্থানীয় আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। পিবিআই প্রধান জানান, দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে; তবে তদন্তের স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, তারা ঘটনাস্থলে কথা বলছিলেন, সে সময় কিছু লোক ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন আর তিনি পালিয়ে আসেন। দীপের দেওয়া এই বক্তব্যসহ তদন্তে প্রাপ্ত অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অন্যদিকে, নিহত তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে একটি ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পকেটে থাকা আইফোন ও হাতঘড়ির সূত্র ধরে মরদেহটি সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সৌরির বলে শনাক্ত করেন তার খালাতো ভাই জহির হাসান।

সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহত তাহসিফের উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি ছিল। তার নাক দিয়ে রক্ত বের হলেও শরীরের অন্য কোথাও কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন ছিল না। শরীরের অঙ্গগুলো স্বাভাবিক থাকলেও পেট ফোলা ছিল এবং হাত দুটি মাথার সামনের দিকে বাঁকা অবস্থায় পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পড়ুন : দেশের বাজারে কমল সোনার দাম

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন