সীমান্তে চোরাচালান রোধ ও অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে। গত শুক্র ও শনিবার জেলার সীমান্তবর্তী চারটি পৃথক স্থানে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে কসমেটিকস, কম্বল, জিরা ও চিনিসহ দুই লাখ ৩৫ হাজার ৩২২ টাকা মূল্যের মালামাল আটক করেন বিজিবি সদস্যরা। তবে এসব ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি; চোরাকারবারিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় সবগুলো পণ্যই মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক ও পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তি ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান নির্মূলে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে ৩১ বিজিবি। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম অভিযানটি চালায় বরুয়াকোনা বিওপি’র (বর্ডার অবজারবেশন পোষ্ট) একটি টহল দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার ১১৮১ এমপি থেকে আনুমানিক পাঁচশো গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কুয়ারপাড় নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক হাজার ১৪৮ পিস ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার কসমেটিকস জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব প্রসাধনীর সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ৮১ হাজার ৩৭২ টাকা।
একই দিন সন্ধ্যায় সীমান্তের আরেক পয়েন্টে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালানো হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে মাধুপাড়া বিওপি’র টহল দল সীমান্ত পিলার ১১৪৬ এমপি হতে আনুমানিক দুইশো গজ দেশের ভেতরে গাছপাড়া এলাকায় তল্লাশি চালায়। এ সময় সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের আট পিস উন্নত মানের ভারতীয় কম্বল আটক করা হয়।
শুক্রবারের পর শনিবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাত ও ভোরেও সীমান্তে বিজিবির তৎপরতা অব্যাহত থাকে। রাত সোয়া ১২টার দিকে বিজয়পুর বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত পিলার ১১৫১ এমপি থেকে প্রায় তিনশো গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কমলাবাড়ী নামক স্থানে চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭৯ কেজি ভারতীয় জিরা এবং ৩৫৯ পিস বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ ৪৫০ টাকা।
সর্বশেষ শনিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ভবানীপুর বিওপির সদস্যরা চতুর্থ অভিযানটি পরিচালনা করেন। নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার ১১৫৪ এমপি থেকে আনুমানিক চারশো গজ বাংলাদেশের ভেতরে নয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৯০ কেজি ভারতীয় চিনি জব্দ করা হয়। আটককৃত চিনির সিজার মূল্য ১৩ হাজার ৫০০ টাকা।
৩১ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান বন্ধে বিজিবি সদস্যরা সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পৃথক চারটি অভিযানে জব্দকৃত ভারতীয় কসমেটিকস, কম্বল, জিরা ও চিনি নেত্রকোনা কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পড়ুন:চুয়াডাঙ্গায় গলায় খাবার আটকে বৃদ্ধর মৃত্যু
ইমি/


