শিক্ষার্থী বেশি, সুযোগ-সুবিধা কম, এইচএসসি ফলেও পিছিয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজ

আয়তন ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে ঢাকা কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। নেই নিজস্ব ক্যান্টিন, আবাসিক হল কিংবা পর্যাপ্ত খেলার মাঠ। শ্রেণিকক্ষের সংকটও দীর্ঘদিনের। অথচ শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে এই দুই কলেজের তুলনায় এগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি। সীমিত অবকাঠামোয় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান নিশ্চিত করা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলও কলেজটির শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় একটি কক্ষে সব শিক্ষার্থীর বসার জায়গা হয় না। নেই মানসম্মত ক্যান্টিন, আবাসিক হল কিংবা খেলাধুলার পর্যাপ্ত পরিবেশ। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের প্রশ্ন, যেখানে বিদ্যমান শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো পাঠদান নিশ্চিত করাই কঠিন, সেখানে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হচ্ছে কেন?

শুধু অবকাঠামোগত সংকট নয়, এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলও হতাশ করেছে শিক্ষার্থীদের। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে এ বছর তিন বিভাগে মোট ১ হাজার ৯১৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ২১৫ জন। কলেজটির পাসের হার ৬৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৫৫৬ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৫৪ জন। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র দুজন।

অন্যদিকে, একই পরীক্ষায় কবি নজরুল সরকারি কলেজের পাসের হার ৮৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১ হাজার ৫৭৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১ হাজার ৩৬২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৩ জন শিক্ষার্থী।

আর ঢাকা কলেজের ফলাফল তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো। প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার ১৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৮৮ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

তিন কলেজের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে ঢাকা কলেজ এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজের তুলনায় বেশ পিছিয়ে রয়েছে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। বিশেষ করে পাসের হারের বড় ব্যবধান প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু শিক্ষার্থী ভর্তি বাড়ালেই হবে না, তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক, আধুনিক লাইব্রেরি, ক্যান্টিন, আবাসন ও খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

শিক্ষার্থীর চাপ সামলানোর মতো অবকাঠামো নেই, নেই প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা—এর মধ্যেই চলছে পাঠদান। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর আগে তাঁদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি কি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে?

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : টাঙ্গাইলে সেই মেধাবী শিক্ষার্থী নিহত রাকিবুল পেল জিপিএ-৫

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন