হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জলরাশি আর প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ কেবল স্থানীয় অর্থনীতির প্রাণশক্তিই নয়, এটি রাষ্ট্রীয় রাজস্বেরও অন্যতম প্রধান উৎস। কখনো কখনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সেই সরকারি সম্পদে চলে অবৈধ হস্তক্ষেপ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোনার ভাটি অঞ্চল খ্যাত খালিয়াজুরী উপজেলার দলিমাটি জলমহালে এমনই এক অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) অমান্য এবং সরকারি ইজারামূল্য পরিশোধ না করে অবৈধভাবে মাছ ধরার অপরাধে এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জরিমানাকৃত ব্যক্তির নাম মো. জসিম উদ্দিন (৪২)। তিনি খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের বল্লী গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।
স্থানীয় ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খালিয়াজুরী উপজেলার দলিমাটি জলমহালটির ওপর বর্তমানে আইনি স্থগিতাদেশ বা স্টে অর্ডার বলবৎ রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জলমহালের নির্ধারিত ইজারামূল্যও পরিশোধ করা হয়নি। কিন্তু আইনের এমন স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে শনিবার দুপুরের দিকে ওই জলমহালে মাছ ধরার (ফিশিং) কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন মো. জসিম উদ্দিন ও তার সহযোগীরা।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অলিদুজ্জামান। তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও অলিদুজ্জামান। স্থানীয় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতেই উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়।
সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এবং আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে সম্পূর্ণ অবৈধ প্রক্রিয়ায় সেখানে মৎস্য আহরণ চলছিল। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের দোষ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মো. জসিম উদ্দিনকে নগদ এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জামান জানান, সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে প্রশাসন সর্বদা বদ্ধপরিকর। ইজারামূল্য পরিশোধ না করে কিংবা আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কোনো জলমহালে মৎস্য আহরণ করার সুযোগ নেই। জনস্বার্থে এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
হাওরপাড়ে খোলা ময়দানে প্রশাসনের এমন তড়িৎ ও স্বচ্ছ বিচারিক কার্যক্রম স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝেও বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এলাকাবাসীর মতে, সরকারি জলমহালগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এমন নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত জরুরি।
পড়ুন : টাঙ্গাইলে সেই মেধাবী শিক্ষার্থী নিহত রাকিবুল পেল জিপিএ-৫


