রাজধানীতে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যদিও এটি শুরুর আগেই রুট বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে পরিবহন মালিকদের মধ্যে। তারপরও রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর ৬টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। বেলা ১১টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ছয়টি রুটে মোট ৮১৬টি বাস চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৭৯৬টি নন-এসি এবং ২০টি এসি বাস।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিববাড়ী-ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে ভিআইপি পরিবহনের ২৫৩টি, মিরপুর চিড়িয়াখানা-কেরানীগঞ্জ রুটে চিড়িয়াখানা সিটি বাসের ১৩৩টি এবং ঘাটারচর-ডেমরা রুটে রমজান আলী এন্টারপ্রাইজের ৭০টি বাস চলবে।
অন্যদিকে, ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে ফোর স্টার বাস লাইনের ১৫০টি, ঘাটারচর-ধউর রুটে পিএনপি সিটি সার্ভিসের ১৯০টি এবং টঙ্গী-ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে ঢাকা চাকার ২০টি এসি বাস চলাচলের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর ও উত্তরা এলাকায় তিনটি সার্কুলার রুটে ৬০টি বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি নির্ধারিত রুটে একটি কোম্পানি বাস পরিচালনা করবে। অর্থাৎ, একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাসের মধ্যে যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতা কমিয়ে নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে বাস চলাচল নিশ্চিত করা হবে।
এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ডিটিসিএর সঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর বিদ্যমান বাস নেটওয়ার্ককে ৩২টি করিডোরে পুনর্বিন্যাস করা হবে। এসব করিডোরে নির্ধারিত বাসস্টপ, ইলেকট্রনিক টিকিটিং এবং জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, বাসের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ এবং যাত্রীসেবা উন্নত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। তবে রুট বরাদ্দ নিয়ে বিরোধ ও বাসের মানসংক্রান্ত জটিলতা শুরুর আগেই নতুন ব্যবস্থার বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সূত্রে জানা গেছে, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে পারেন।
পড়ুন : এইচএসসি’র পুনঃপরীক্ষা: ফরম পূরণ ৩ নভেম্বর, পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর


