রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তুলতে প্রতিদিন মাঠপর্যায়ে কাজ করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি বিশেষ টিম। এ কার্যক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-৭ ও ৮-এর সাতটি ওয়ার্ডকে প্রাথমিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এসব এলাকার সব সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে ডিএনসিসির অঞ্চল-৭ ও ৮ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-২ আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান। ডিএনসিসির অঞ্চল-৭-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসান হাবিবের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ড. কে এম আলমগীর কবির এবং ডিএনসিসির অঞ্চল-৮-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান বলেন, ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতার অবস্থা সন্তোষজনক নয়। শহরকে বাসযোগ্য করে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৫ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ড. কে এম আলমগীর কবির। ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কমিটির সদস্যরা প্রতিদিন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
তিনি বলেন, শুধু সরকারি টিমের পক্ষে পুরো শহর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য নগরবাসীর অংশগ্রহণ জরুরি। অঞ্চল-৭ ও ৮-এ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বাজার সমিতি, রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এ কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।
হাফিজুল্লাহ খান বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে ওয়ার্ডভিত্তিক ও এলাকাভিত্তিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি মূল কমিটি থাকবে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, হাসপাতালের প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম ও খতিব, অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বাজার সমিতি, যুব সংগঠন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবারে পরিচ্ছন্নতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীকে সচেতন করা গেলে তাদের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার মানুষের কাছে এ বার্তা পৌঁছানো সম্ভব। এ ছাড়া রেড ক্রিসেন্ট, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও গার্ল গাইডসের মতো সংগঠনকেও কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ কর্মকর্তা বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার সব সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, সংস্থা, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ নির্দেশনা অমান্য করলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সরকারি আবাসিক ভবন ও কলোনি অপরিচ্ছন্ন রাখলে আবাসন বরাদ্দ বাতিলের সুপারিশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইমামদের মাধ্যমে প্রতি শুক্রবারের খুতবায় পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও নেওয়া হবে।
সভায় ডিএনসিসির অঞ্চল-৮-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সফল করতে প্রতিটি মহল্লার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দায়িত্ব দিতে হবে। বাড়ি ও দোকানের সামনের ফুটপাত এবং সড়ক পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক ও ব্যবসায়ীদের নিতে হবে।
তিনি বলেন, রাস্তায় বা ফাঁকা জায়গায় ময়লা ফেললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি আগামী এক মাসের মধ্যে ৪৪ থেকে ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে একটি এলাকা বেছে নিয়ে ধুলা ও পোস্টারমুক্ত নান্দনিক ‘মডেল প্লেস’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণি থেকে দুই-তিনজন শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচ্ছন্নতা দল গঠনের প্রস্তাবও তুলে ধরেন তিনি। এসব শিক্ষার্থীর জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ক্যাপ ও টি-শার্ট দেওয়া হবে।
সভায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও এলাকাবাসী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে মতামত দেন। তারা মশা নিধন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পড়ুন : রূপগঞ্জে ৬৪২ বোতল ফেনসিডিয়ালসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার


