চাঁদপুরে ৩ হাজার ৯২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

চাঁদপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৯২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পাঁচ টনি হলুদ রঙের ট্রাক এবং ট্রাকে থাকা ১৩ টন রড জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা ট্রাক ও রডের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৮ লাখ টাকা। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ইয়াবা পরিবহনের সঙ্গে জড়িত।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১ নভেম্বর) ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে চাঁদপুর শহরের পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ারলেস বাজার মোড়ে স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে পাকা সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. জামাল হোসেন (৪২) ও মো. নিজাম উদ্দিন (৩০)। তাদের দুজনেরই স্থায়ী বাড়ি ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলায়। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম মহানগরের সদরঘাট থানাধীন ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের পৃথক এলাকায় বসবাস করতেন।

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খায়রুল কবীরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফয়েজ আহম্মেদের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে থানার এসআই আবুল কালাম গাজী, এএসআই নয়ন মিয়া, এএসআই কামরুল ইসলামসহ পুলিশের একটি চৌকস দল অংশ নেয়।

অভিযানকালে সন্দেহভাজন একটি হলুদ রঙের পাঁচ টনি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৩ হাজার ৯২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ট্রাকটি এবং এর ভেতরে থাকা ১৩ টন রড জব্দ করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকে থাকা দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা পাঁচ টনি ট্রাকটির আনুমানিক মূল্য ৩৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে ট্রাকে থাকা ১৩ টন রডের আনুমানিক মূল্য ১৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে শুধু জব্দ করা ট্রাক ও রডের মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা। এর সঙ্গে উদ্ধার করা ইয়াবার মূল্য যুক্ত হলে জব্দ করা আলামতের আর্থিক পরিমাণ আরও বাড়বে। তবে ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

গ্রেপ্তার জামাল হোসেনের পিতার নাম মৃত আব্দুল মালেক মিয়া। তার স্থায়ী ঠিকানা ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরসফি এলাকায়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের সদরঘাট থানাধীন মাদারবাড়ী এলাকার উদয়ন গলির ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করতেন। অপর গ্রেপ্তার নিজাম উদ্দিনের পিতার নাম বজলুর রহমান। তার স্থায়ী ঠিকানা ভোলার দৌলতখান উপজেলার দলিঘাট এলাকায়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট এলাকার বাদশা মিয়ার গলিতে বসবাস করতেন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(খ), ২৬, ৩৮ ও ৪১ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার এফআইআর নম্বর ০৫, তারিখ ১ নভেম্বর ২০২৬। জিআর নম্বর ১৪৫৩। একই দিন দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

মামলা রুজুর পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের যথাযথ পুলিশি নিরাপত্তায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক ও বাণিজ্যিক পণ্য জব্দের ঘটনাটি শহরজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাকের আড়ালে মাদক পরিবহনের অভিযোগ নতুন করে মাদক কারবারের কৌশল ও পরিবহনব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। চাঁদপুরকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

পড়ুন : ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মিল্টন, ​সদস্য সচিব এস এম জাহাঙ্গীর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন