একটি হার ও একটি ড্রয়ের পর জয়ে ফেরার জন্য মরিয়া ছিল ইন্টার মায়ামি। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই নিজের চেনা জাদু দেখালেন লিওনেল মেসি। দুর্দান্ত এক অ্যাসিস্টের পর নিজেও করলেন গোল। আর্জেন্টাইন মহাতারকার নৈপুণ্যে নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনকে ২-১ গোলে হারিয়ে দুই ম্যাচের জয়খরা কাটিয়েছে ফ্লোরিডার ক্লাবটি। একই সঙ্গে ক্যারিয়ারের ৯৩৭তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মেসি।
নিউ ইংল্যান্ডের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। তবে প্রথম গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরাই। ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে ড্যানিয়েল গাজদাগেরের গোলে এগিয়ে যায় নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশন। পিছিয়ে পড়ে চাপের মুখে পড়ে ইন্টার মায়ামি। তবে হাল ছাড়েননি মেসিরা। শেষ পর্যন্ত অধিনায়কের নেতৃত্বেই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি।
ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে সমতায় ফেরে ইন্টার মায়ামি। গোলটির পেছনে ছিল মেসির অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও নিখুঁত পাস। সতীর্থকে বল বাড়িয়ে দিয়ে দ্রুত প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন আর্জেন্টাইন তারকা। এরপর সতীর্থের বাড়ানো বাতাসে ভাসানো ক্রসে হেড করে বল ডান দিকে পাঠিয়ে দেন তিনি। সেখানে অপেক্ষায় থাকা জার্মান বারতারাম সহজেই বল জালে পাঠান। মেসির অসাধারণ অ্যাসিস্টে ম্যাচে সমতা ফেরায় মায়ামি।
তবে সমতায় সন্তুষ্ট থাকতে চাননি আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা। দুই ম্যাচের জয়খরা কাটাতে এবার নিজেই গোল করার দায়িত্ব তুলে নেন কাঁধে। ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত।
বক্সের বাইরে বল পেয়ে একাধিক ডিফেন্ডারের বাধা উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যান মেসি। দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় তাকে ঘিরে ধরে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অসাধারণ ড্রিবলিং ও নিয়ন্ত্রণে বল নিজের দখলে রাখেন তিনি। এরপর বক্সের সামনে থাকা সতীর্থকে পাস দেন। সতীর্থ বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আবার ছোট পাসে মেসির দিকে বাড়িয়ে দেন।
এরপর আর ভুল করেননি বিশ্বকাপজয়ী এই ফরোয়ার্ড। দ্রুত বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের নিচু শটে নিউ ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক টার্নারকে পরাস্ত করেন তিনি। মেসির সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে ফ্লোরিডার ক্লাবটি।
এই গোলের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারের ৯৩৭তম গোলের দেখা পেয়েছেন মেসি। পাশাপাশি ওপেন প্লে থেকে করা গোলের সংখ্যা নিয়ে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। ওপেন প্লে থেকে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২২টিতে। যা ফুটবল ইতিহাসে তার অনন্য গোল করার সক্ষমতার আরেকটি প্রমাণ।
ম্যাচটিতে মেসির পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় অসাধারণ। দলের সমতায় ফেরার গোলের কারিগর ছিলেন তিনি, আবার জয়সূচক গোলটিও এসেছে তার পা থেকে। অর্থাৎ দলের দুই গোলেই সরাসরি অবদান রেখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
একটি হার ও একটি ড্রয়ের পর এই জয় ইন্টার মায়ামির জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কঠিন পরিস্থিতিতে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে দলটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে।মেসির জাদুতে আবারও জয়ের পথে ফিরল ইন্টার মায়ামি। বয়স বাড়লেও মাঠে তার প্রভাব যে কমেনি, নিউ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্সে সেটিই আরও একবার প্রমাণ করলেন ফুটবল বিশ্বের এই মহাতারকা।
পড়ুন:অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জেতা বাংলাদেশকে নিয়ে সতর্ক দক্ষিণ আফ্রিকা
ইমি/


