পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ফারহানা ইয়াসমিন শীলার (৪৩) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী রাসেল মাহমুদ বয়াতীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা সদরের বাহেরচর বাজারে মানববন্ধন শেষে ‘আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাহিরে’- এই স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাঙ্গাবালী থানার সামনে যান তারা।
পরে থানার মূল ফটকের সামনে প্রায় দুই ঘন্টা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে শীলা মৃত্যুর ঘটনায় মামলা গ্রহণ করে স্বামী রাসেলকে গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয় । আল্টিমেটামের পর দুপুর ২টার দিকে এবিষয়ে পুলিশ আশ্বস্ত করলে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা। এর পরপরই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে শীলার স্বামী রাসেল মাহমুদ এবং রাসেলের সহযোগী হিসেবে তার চাচাতো ভাই সোহান বয়াতীকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের ছোট ভাই রাইসুল ইসলাম কমল।
নিহত শীলার মেয়ে লাবিবা অভিযোগ করে বলেন, তার মাকে প্রতিদিন নির্যাতন করা হতো। প্রায় প্রতিদিনই তিনি মাকে কাঁদতে দেখতেন। কোনো দিন শান্তিতে ঘুমাতে দেখেননি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মাকে মারধর ও কষ্ট দেওয়া হতো। তিনি মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
শীলার ছেলে রাফিন বলেন, তার মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনো বাইরে রয়েছেন। কীভাবে তিনি বাইরে আছেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। এটি নিশ্চিতভাবে হত্যাকাণ্ড দাবি করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
নিহতের ছোট ভাই ও মামলার বাদী রাইসুল ইসলাম কমল বলেন, তারা এ ঘটনার বিচার চান। মামলা চলমান রাখতে হবে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে। রাসেলের ফাঁসি চান তারা। অন্যথায় বারবার থানার সামনে এসে প্রতিবাদ করবেন।
নিহতের চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম সাগর বলেন, আত্মহত্যা কিংবা হত্যা-যেটাই হোক, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ দুই ক্ষেত্রেই রাসেল দায়ী বলে তারা মনে করেন। দ্রুত তাকে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ ধরনের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে যে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। প্রথমে অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছিল। পরবর্তী ধাপে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তবে পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। এতে রাসেল ও তার চাচাতো ভাই সোহানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ জন্য অভিযান চলছে।
গত শুক্রবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার এলাকার নিজ বসতঘর থেকে শীলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়। শীলার বাবা প্রয়াত সাজাদুল ইসলাম শামীম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার স্বামী রাসেল মাহমুদ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। রাসেল ও শীলা-দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে।
শীলার মরদেহ উদ্ধারের পর স্বামী রাসেলের দাবি ছিল, শীলা আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের পরিবারের শুরু থেকেই দাবি, আত্মহত্যা কিংবা হত্যা-যেটাই হোক, শীলার মৃত্যুর জন্য রাসেলই দায়ী। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ, স্বজন ও এলাকাবাসী।
পড়ুন : ফটিকছড়িতে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত


