কেন্দুয়ায় ৮২টি নিষিদ্ধ চায়না জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করল প্রশাসন

খাল-বিল আর জলাশয়ে ভরা বাংলার চিরচেনা রূপের সাথে জড়িয়ে আছে হরেক রকম দেশীয় মাছের সমারোহ। কিছু অসাধু শিকারির অতিলোভ এবং নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহারে আজ হুমকির মুখে পড়েছে আমাদের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ। মা মাছ ও পোনা নিধন রোধ করে দেশীয় মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার টিকিয়ে রাখতে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এই অভিযানে জব্দকৃত ৮২টি নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়ে পৃথকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালিত হয়। কান্দিউড়া ইউনিয়নের তাম্বুলিপাড়া এলাকা এবং চিরাং ইউনিয়নের প্রাকৃতিক মৎস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত কালিয়ানের বিলে অভিযান চালানো হয়। জব্দ ও ধ্বংস করা ৮২টি জালের আনুমানিক বাজারমূল্য চার লাখ ১০ হাজার টাকা। তবে জালগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় জলাশয় থেকে উদ্ধার করায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নেতৃত্ব দেন কেন্দুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী। অভিযান চলাকালে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করে কেন্দুয়া থানা পুলিশের একটি দল।

জলাশয়ে চায়না দুয়ারি জালের ভয়াবহতা ও পরিবেশগত ক্ষতি সম্পর্কে আলোকপাত করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খাদিজা খাতুন জানান, বিশেষ ধরনের জালগুলো মূলত দেশীয় মৎস্যসম্পদের জন্য এক নীরব ঘাতক। এর সূক্ষ্ম ফাঁদে ডিমওয়ালা মা মাছ থেকে শুরু করে সদ্যোজাত ছোট পোনা মাছও নির্বিচারে আটকা পড়ে। ফলে একদিকে যেমন বড় মাছের পাশাপাশি পোনা নিধন হচ্ছে, অন্যদিকে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও প্রাকৃতিকভাবে বংশবৃদ্ধির পথ চিরতরে রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা এবং পুরো জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর।

দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে চায়না দুয়ারি জালের তৈরি, বিক্রি, পরিবহন ও ব্যবহার আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও কিছু অসচেতন মানুষের কারণে স্থানীয় জলাশয়গুলোতে এই জালের ব্যবহার দেশীয় মাছের অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। স্থানীয় জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন স্বাভাবিক রাখতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। জনস্বার্থে এবং দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পড়ুন : ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের প্রাণহানি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন