২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের প্রাণহানি

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৪৩৯ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ২ হাজার ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ৫ জন মারা গেছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী (৯৪৩ জন) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এ ছাড়াও উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ২৩৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪৫ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ২১৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬০ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ২৪ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৪৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ২০৮ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৮০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন, বরিশাল বিভাগে ৩০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৯ জন, রংপুর বিভাগে ৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণসমূহ:

তীব্র জ্বর: রোগীর শরীরে হঠাৎ করেই ১০১ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উচ্চমাত্রার জ্বর আসতে পারে।

তীব্র ব্যথা: মাথার প্রচণ্ড ব্যথার পাশাপাশি চোখের পেছনের অংশে এবং শরীরের বিভিন্ন পেশি ও জয়েন্টে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এই ব্যথার তীব্রতার জন্যই ডেঙ্গুকে অনেক সময় ‘হাড়ভাঙা জ্বর’ বা ‘breakbone fever’ বলা হয়ে থাকে।

ত্বকে ফুসকুড়ি: সাধারণত জ্বর আসার দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে রোগীর সারা শরীরে লালচে রঙের র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।

অন্যান্য উপসর্গ: অতিরিক্ত ক্লান্তি, খাবারের প্রতি অরুচি, বমি বমি ভাব কিংবা বমি হওয়া।

মারাত্মক ডেঙ্গুর বিপজ্জনক লক্ষণ:

সাধারণত জ্বর কমে যাওয়ার ৩ থেকে ৭ দিনের মাথায় ডেঙ্গু মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে, যা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম নামে পরিচিত। রোগীর মধ্যে এই বিপজ্জনক লক্ষণগুলো প্রকাশ পেলেই বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে:

পেটে তীব্র ব্যথা হওয়া কিংবা অনবরত বমি হওয়া।

নাক, মাড়ি বা ত্বক থেকে রক্তপাত হওয়া অথবা বমি ও মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়া কিংবা দ্রুত শ্বাস নেওয়া।

রক্তে প্লাটিলেট বা অনুচক্রিকা দ্রুত কমে যাওয়া।

রোগীর অতিরিক্ত দুর্বলতা বা চরম ছটফটানি ভাব দেখা দেওয়া।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে করণীয় ও প্রাথমিক সতর্কতা:

ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ না থাকলেও সঠিক পরিচর্যা ও সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চললে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম: রোগীকে সম্পূর্ণ শারীরিক বিশ্রামে রাখতে হবে।

তরল খাবার গ্রহণ: শরীরের রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে খাবার স্যালাইন (ORS), ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও স্যুপের মতো প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খাওয়াতে হবে।

ওষুধের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা: জ্বর ও শরীর ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শুধুমাত্র প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। ভুলেও অ্যাসপিরিন (Aspirin), আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) বা ডাইক্লোফেনাকের মতো ব্যথানাশক (NSAID) ওষুধ সেবন করা যাবে না, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি মারাত্মক বাড়িয়ে দেয়।

নিয়মিত পরীক্ষা: চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে নিয়মিত রক্তের সিবিসি (CBC) এবং প্লাটিলেট কাউন্ট পরীক্ষা করাতে হবে।

পড়ুন : ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৭০

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন