অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা: চক্রের আরও ২ সহযোগী গ্রেপ্তার

অনলাইনে ইলিশ মাছ বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে সক্রিয় চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে চক্রের আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে এ পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে চক্রের আরও ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) চাঁদপুর জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে। চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ থানা পুলিশের সহযোগিতায় গত ৩ নভেম্বর সন্দ্বীপ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারণা চক্রের দুই সহযোগীকে তাঁদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ করেন এসআই (নিরস্ত্র) মো. আনছার উল্লাহ, এসআই জিয়াউল হক জিয়া, এএসআই মো. ইলিয়াস ও এএসআই জহির উদ্দিনসহ পুলিশের একটি দল।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার কালাপানিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মহারাজ শীলের বাড়ির শ্যামল চন্দ্র শীলের ছেলে শ্রী শান্ত শীল (২৫) এবং আমানউল্যাহ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চেউরিয়া এলাকার গোপাল মেম্বারের বাড়ির তরিত সূত্রধরের ছেলে মিঠুন সূত্রধর (২৯)।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি সরাসরি ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করতেন। বিশেষ করে চক্রের ফেসবুকভিত্তিক প্রচারণা চালানো, বিভিন্ন পোস্ট বুস্ট করা এবং প্রতারণার উদ্দেশ্যে ওয়েবসাইট তৈরিতে তাঁরা সহায়তা করতেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

অনলাইনে ইলিশ মাছ বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাছের ছবি, দাম ও বিক্রির নানা প্রলোভন দেখিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা আদায়ের মতো কৌশল ব্যবহার করা হতো কি না, তা-ও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

অভিযানকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সিমসহ তিনটি মোবাইল ফোন, চারটি খোলা সিমকার্ড, একটি ল্যাপটপ ও একটি কম্পিউটার পিসি জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিজিটাল ডিভাইস ও সিমকার্ডের মাধ্যমে চক্রটির অনলাইন কার্যক্রম, যোগাযোগের ধরন এবং অন্যান্য সহযোগীদের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

পুলিশের ধারণা, অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে পরিচালিত এ ধরনের প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী ও প্রচার-প্রচারণায় যুক্ত একাধিক সহযোগী থাকতে পারে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জব্দ করা ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত এবং তাদের আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ৪ নভেম্বর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

চাঁদপুর জেলা পুলিশের এ ধারাবাহিক অভিযানকে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাছ বা অন্যান্য পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে অপরিচিত ব্যক্তি কিংবা সন্দেহজনক পেজের বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে অগ্রিম অর্থ পাঠানোর আগে বিক্রেতার পরিচয় ও প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করার বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন