ঢামেকে দুদকের আকস্মিক অভিযান, ক্ষুব্ধ দুদক চেয়ারম্যান

দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতি, দালালদের দৌরাত্ম্য এবং জরুরি বিভাগে রোগী হয়রানির নানা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। অন্যান্য সময়ে সাধারণ কর্মকর্তাদের পাঠানো হলেও, এবার দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে দুদক চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান নিজে এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। তাঁর সঙ্গে টিমে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের কমিশনার (তদন্ত) ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।

অভিযান চলাকালে দুদক শীর্ষ কর্তারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে সরেজমিনে সেবার পরিস্থিতি পরখ করেন এবং চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে ভোগান্তির অভিযোগ শোনেন। পরিদর্শনকালে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র সামনে আসে। বিশেষ করে ডিউটিতে থাকার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কক্ষে চিকিৎসকদের পাওয়া যায়নি।

পরিদর্শনকালে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে দুদক চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এখানে অনেক কিছু ঠিকঠাক পাইনি। চিকিৎসকদের রুমে পাইনি আমরা। জরুরি বিভাগে ডা. তানভীর থাকার কথা, তিনি নেই। নিউরো সার্জনকে রুমে পাইনি আমরা।’

হাসপাতালের সার্বিক মান নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না। একেবারে বেহাল অবস্থা। পরিচালককে বলেছি বিষয়গুলো দেখার জন্য। হাসপাতালে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ সময় দুদক চেয়ারম্যান স্পষ্ট জানান যে, জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত না হওয়া এবং রোগীদের যথাযথ সেবা না পাওয়ার পেছনে যাদের অবহেলা রয়েছে, তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেবল ঢামেক কিংবা সরকারি হাসপাতালই নয়, বেসরকারি হাসপাতালসহ সারা দেশের সব ধরনের সেবাখাত ও অন্যান্য মেডিকেল কলেজে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে পর্যায়ক্রমে দুদকের এমন নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

অভিযানের সময় উপস্থিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন দুদকের তোলা অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার নিশ্চয়তা দেন। তিনি আশ্বাস দিয়ে জানান, উত্থাপিত বিষয়গুলো আমলে নিয়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে যেকোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।

পড়ুন : শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাসে নয়, বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিতেই ফেরানো হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন