মেহেরপুরের গাংনীতে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে আলমাস নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আলমাস গাংনী উপজেলার কচুখালী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর আলমাস স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে ভাটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ করেন। ওই দিন বিদ্যালয়ের পেছনের একটি ব্রিজের ওপর থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
এ ঘটনায় ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা জাকিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আলমাসসহ তিনজনকে আসামি করে গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি আলমাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০-এর সংশোধিত ২০০৩ সালের ৯(১) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
রায়ে আরও বলা হয়, জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে তা আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকেও আদায় করা যাবে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর পারভিন সুলতানা এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী গোলাম মোস্তফা দায়িত্ব পালন করেন।
পড়ুন : ঢামেকে দুদকের আকস্মিক অভিযান, ক্ষুব্ধ দুদক চেয়ারম্যান
সা/


