সোনারগাঁওয়ের জামপুর ভূমি অফিসে দাপট মাহবুবুল আলমের!

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, নামজারি (খারিজ) করতে টাকা দাবি এবং স্থানীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অফিসের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, জমির নামজারি বা খারিজসহ ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে সেবাপ্রার্থীদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও ঘুষ ছাড়া কাজ সম্পন্ন করা কঠিন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ভূমি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলমের তৈরি একটি সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে কেউ সহজে ভূমি অফিসের সেবা নিতে পারেন না। নামজারি (খারিজ)সহ ভূমি-সংক্রান্ত যেকোনো কাজ করতে হলে ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আসতে হয়। আর এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন তার ব্যক্তিগত গাড়ির চালক বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, একজন ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হয়েও অফিস চলাকালীন সময়ে ভূমি কর্মকর্তার সামনের চেয়ারে বসে থাকেন তিনি। সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজের নিয়ন্ত্রণও তার হাতেই থাকে বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে না এলে সেবাপ্রার্থীদের দিনের পর দিন ভূমি অফিসে ঘুরতে হয়। এমনকি প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও বিভিন্ন অজুহাতে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, একজন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও মাহবুবুল আলমের ব্যক্তিগত গাড়ি ও চালক থাকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তার আর্থিক সামর্থ্য ও জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। তবে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—জামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস কি সরকারি নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে, নাকি কোনো ব্যক্তিগত সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলছে? সাধারণ মানুষ কেন ভূমিসেবা নিতে গিয়ে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগের মুখোমুখি হবেন?

স্থানীয়দের এসব অভিযোগের বিষয়ে মাহবুবুল আলমের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা ভূমি প্রশাসনের কাছে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মেহেরপুরে ককটেল সাদৃশ্য বস্তু, কাফনের কাপড় ও হুমকির চিরকুট উদ্ধার

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন