সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনে মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৫৩৫ জন রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭২১ জন ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭৫ জন, খুলনা বিভাগে ১৬১ জন, বরিশাল বিভাগে ১৪৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৮ জন এবং রংপুর বিভাগে ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন তিনজনের মৃত্যু নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৪৫৫ জনের প্রাণহানি ঘটল। অন্যদিকে, চলতি বছরের ৬ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯০৬ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৮ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৫ হাজার ৭৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এবং মারা যান ৪১৩ জন। তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের।
তবে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ বিপর্যয় ঘটেছিল ২০২৩ সালে, সেই বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং রেকর্ড ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।
ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণসমূহ:
তীব্র জ্বর: রোগীর শরীরে হঠাৎ করেই ১০১ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উচ্চমাত্রার জ্বর আসতে পারে।
তীব্র ব্যথা: মাথার প্রচণ্ড ব্যথার পাশাপাশি চোখের পেছনের অংশে এবং শরীরের বিভিন্ন পেশি ও জয়েন্টে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এই ব্যথার তীব্রতার জন্যই ডেঙ্গুকে অনেক সময় ‘হাড়ভাঙা জ্বর’ বা ‘breakbone fever’ বলা হয়ে থাকে।
ত্বকে ফুসকুড়ি: সাধারণত জ্বর আসার দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে রোগীর সারা শরীরে লালচে রঙের র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
অন্যান্য উপসর্গ: অতিরিক্ত ক্লান্তি, খাবারের প্রতি অরুচি, বমি বমি ভাব কিংবা বমি হওয়া।
মারাত্মক ডেঙ্গুর বিপজ্জনক লক্ষণ:
সাধারণত জ্বর কমে যাওয়ার ৩ থেকে ৭ দিনের মাথায় ডেঙ্গু মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে, যা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম নামে পরিচিত। রোগীর মধ্যে এই বিপজ্জনক লক্ষণগুলো প্রকাশ পেলেই বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে:
পেটে তীব্র ব্যথা হওয়া কিংবা অনবরত বমি হওয়া।
নাক, মাড়ি বা ত্বক থেকে রক্তপাত হওয়া অথবা বমি ও মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়া কিংবা দ্রুত শ্বাস নেওয়া।
রক্তে প্লাটিলেট বা অনুচক্রিকা দ্রুত কমে যাওয়া।
রোগীর অতিরিক্ত দুর্বলতা বা চরম ছটফটানি ভাব দেখা দেওয়া।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে করণীয় ও প্রাথমিক সতর্কতা:
ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ না থাকলেও সঠিক পরিচর্যা ও সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চললে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম: রোগীকে সম্পূর্ণ শারীরিক বিশ্রামে রাখতে হবে।
তরল খাবার গ্রহণ: শরীরের রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে খাবার স্যালাইন (ORS), ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও স্যুপের মতো প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খাওয়াতে হবে।
ওষুধের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা: জ্বর ও শরীর ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শুধুমাত্র প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। ভুলেও অ্যাসপিরিন (Aspirin), আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) বা ডাইক্লোফেনাকের মতো ব্যথানাশক (NSAID) ওষুধ সেবন করা যাবে না, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি মারাত্মক বাড়িয়ে দেয়।
নিয়মিত পরীক্ষা: চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে নিয়মিত রক্তের সিবিসি (CBC) এবং প্লাটিলেট কাউন্ট পরীক্ষা করাতে হবে।
পড়ুন : ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৭ মৃত্যু, নতুন রোগী ১৫৯৬


