​গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ‘সাঁওতাল হত্যা দিবস’ পালিত: ১০ বছরেও হয়নি বিচার

১০ বছর পেরিয়ে গেলেও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জে তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার হয়নি। এমনকি আজ পর্যন্ত হত্যা মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ ক্ষয়ক্ষতির কোনো ক্ষতিপূরণও পাননি ভুক্তভোগীরা। বাস্তবায়িত হয়নি সরকারের কোনো আশার বাণী। ফলে নিপীড়নের শিকার আদিবাসী সাঁওতালরা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

​শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় ‘সাঁওতাল হত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
​২০১৬ সালের ৬ নভেম্বরের সেই করুণ স্মৃতির কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, আহতরা উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, আবার কেউ শরীরে গুলির স্প্রিন্টার নিয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় কর্মক্ষমতা হারিয়ে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছেন। ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে নানা আশ্বাসের বাণী শোনানো হলেও তার কোনোটিরই বাস্তবায়ন হয়নি। সাঁওতাল অধ্যুষিত এলাকায় এখনও ভূমিদস্যুদের অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

​সমাবেশ থেকে অবিলম্বে সাঁওতাল হত্যার বিচার, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার এবং বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়।
​
​দিবসটি উপলক্ষে সকালে উপজেলার জয়পুর গ্রামে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। পরে মাদারপুর ও জয়পুর গ্রাম থেকে কালো পতাকা, সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী তীর-ধনুক, ব্যানার এবং বিভিন্ন দাবি সংবলিত ফেস্টুন নিয়ে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশে মিলিত হয়। সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

​সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন—সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজীম তিতিল, এলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, প্রোগ্রাম ম্যানেজার রফিক আহমেদ সিরাজী, আদিবাসী নেত্রী বিচিত্রা তিরকি, গাইবান্ধা সদর উপজেলা আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী মুসা, আদিবাসী নেতা খোকন সুইটেন মুরমু, আরতি ফালকো, সমাজকর্মী মনির হোসেন সুইট, ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফায়েল হাসদা, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান ময়নুল, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের মার্টিন মুরমু, তিতাস মার্ডি, ওমর ফারুক প্রমুখ।
​
​উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। সাঁওতালদের উচ্ছেদ করতে গিয়ে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৩০ জন সাঁওতাল আহত হন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এবং সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গল মারডি, রমেশ টুডু ও শ্যামল হেমব্রম—এই তিনজন সাঁওতাল নিহত হন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মালচিং পেপার ও জৈব প্রযুক্তিতে নেত্রকোনার মুন্নার কৃষি বিপ্লব

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন