প্যারালাইসিস, দূরারোগ্য আক্রান্ত হতদরিদ্রদের গোঁপনে দান,অনুদানসহ ঘর করে দেয়ার মতো মানবিক কাজ করেও প্রচার বিমূখ ছিলেন মানবিক মামুন। তবে এবার তার ছোট ভাই আবু মোহাম্মদ মাসুম চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ার পর বেরিয়ে আসলো ডজনখানিক হত দরিদ্রদের ঘর করে দেয়ার খবর। একদিকে আবু মাসুম নিজ অর্থায়নে রাস্তা ঘাট তৈরী,মেরামত করছেন,অন্যদিকে আব্দুল্লাহ আল মামুন শতাধিক দরিদ্রদের মাঝে চালের বস্তা বিতরণ ও জরাজীর্ণ ঘর মেরামত, নতুন ঘর নির্মান করে সাধারণ মানুষের দ্বারে আস্থা অর্জন করছেন তারা। স্থানীয়দের ধারনা নিজ অর্থায়নে জনগণের পাশে থাকার এমন বিরল এ মানবিক কাজের কারনেই মামুন ও আবু মাসুমদের জনগণ মূল্যায়ন করবেন।
পেশায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দলিল লিখক আব্দুল্লাহ আল মামুন নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড দক্ষিণ নবগ্রামের বাসিন্দা। তিনি একই এলাকার মোঃ নাসির উদ্দিনের ছেলে ৷ তার ছোট ভাই আবু মোহাম্মদ মাসুম রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।
স্থানীয় রূপগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা সুবিধাভোগী আক্কাস আলী বলেন, আমার ভাগনী বিধবা। তার ঘর ছিলো না। কাপড়,কাগজ পেঁচিয়ে বসবাস করতো। জরাজীর্ণ টিনের চালায় বৃষ্টির পানি ঝড়তো। এসব চিত্র দেখে মামুন হাজী পরেরদিন ঘর নির্মাণ করে দেন। এখন শান্তিমত বসবাস করতে পারছি। তবে বাড়ি থেকে যাতায়াতের রাস্তা চলাচল ভোগান্তি দূর করার দাবী করছি।
দক্ষিণ নবগ্রামের হতদরিদ্র নৌকা মাঝি আতিকুরের ছেলে ফারুক(৩৮) বলেন,
ব্যতিক্রমী সমাজসেবা মত্ত মামুন ও আবু মাসুম তারা দুই ভাই। আমরা দিনমজুরী করে যা পাই তা দিয়ে খাবার কিনে খাওয়াই কষ্ট। তারপর নদীর কিনারায় হওয়ায় মেঝে থেকে মাটি সরে যায়। টিনগুলো মরিচা ধরে কাঠ ভেঙে বসবাস করতে পারছিলাম না। এসব বিষয় জেনে মামুন হাজী রাতের বেলায় লোক পাঠিয়ে ঘরের হিসেব করে সকালেই মিস্ত্রি নিযুক্ত করে টিনশেড ঘর করে দেন। আমরা এখন আরামে নিরাপদে বসবাস করছি।
দক্ষিণ নবগ্রামের বাসিন্দা মৃত আবুল হোসেন মাঝির প্যারালাইসিস আক্তান্ত ছেলে নজরুল ইসলাম ( ৪৮) বলেন,
দরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ, ঘর নির্মাণ, ভাংচাচুরা, সহায় সম্বলহীন লোকদের সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন আল মামুন ও আবু মাসুম গং। আমার দূরাবস্থা দেখে সব রকম সহায়তা নিয়ে পাশে দাড়ায় তারা। নদীর কিনারায় ঘর থাকায় ভেঙ্গে যেতো। এখন ভিট পাকা করে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। আমি পরিবার নিয়ে বসবাস করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মৃত জিন্নার স্ত্রী বিধবা ফাতেমা বলেন, মামুন এ এলাকায়
১০ টি দরিদ্রের জন্যে ঘর করে দিয়েছেন। এ পর্যন্ত টিনসেড ঘর নির্মাণ কাজ আরও ৪ টি চলমান। আমাকেও একটি ঘর করে দেয়ায় নিরাপদে বসবাস করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, রূপগঞ্জ গ্রামের মৃত সহিদ মাঝির ৩ ছেলে মেয়ে স্ত্রী ঘর করে দেয়া, মুশুরী বৈরাগবাড়ির টেক বিধবা, নুরুন্নেছার ঘরসহ প্রায় ১৮ টি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। তার ভাই আবু মোহাম্মদ মাসুম রূপগঞ্জ ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক নিজ অর্থায়নে করে দিচ্ছেন। এমন ব্যতিক্রম মানবিক মানুষ পাওয়া সৌভাগ্যের।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি দলিল লিখক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমার দাদা, বাবা আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, নিজের সুখ, নিজের আরামে থাকা আর আশপাশের মানুষকে অভুক্ত রাখা, ঘরহীন রাখা কোন মানুষের সভ্যতা হতে পারেনা। ফলে পূর্ব পুরুষদের দেয়া শিক্ষা থেকে আমাদের আয় রোজগারের একটি অংশ সাধ্যমতো নিন্ম আয়ের, দরিদ্রদের জন্যে বরাদ্দ রাখি। এসব প্রচারের চিন্তা করিনি। তবে এখন মনে করি আমার দান করার বিষয়টি দেখে আরও বিত্তশালীরা যদি দান অনুদান নিয়ে মানুষের পাশে দাড়ায় তবে দরিদ্ররা উপকৃত হবে। তারপরও গত ২০ বছর ধরে রাতের আঁধারে চাল, ডাল তেল দিয়ে মানুষের পাশে ছিলাম। আওয়ামীলীগের সময়ে অত্যাচারের শিকার হলেও আমরা মানুষের মায়া, মানুষের পাশে দাড়ানো ভুলিনি। করোনাকালীন নিজের ঘরে যা ছিলো বিলিয়েছি। আমি মনে করি,আমরা চিরদিনের জন্যে আসিনি। কিছু ভালোকাজ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই আমার ও আমার পরিবারের লোকজনের লক্ষ্য।
ইমি/


