বিজ্ঞাপন

এসিড নিক্ষেপের ভয় দেখিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, মামলা তুলে নিতে হুমকি

নোয়াখালী সদর উপজেলায় এসিড নিক্ষেপের ভয় দেখিয়ে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মো. সজিব নামের দুই সন্তানের এক জনকের বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন


এই ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করার পর মামলা তুলে নিতে ভিকটিমের পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি প্রদানের অভিযোগও ওঠেছে অভিযুক্ত সজিবের বিরুদ্ধে।


বৃহস্পতিবার (০৫ জুন) সকালে সাংবাদিকদের সামনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন ভিকটিমের পরিবার। এরআগে গত ০৩ মে দিবাগত গভীর রাতে সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।


ভিকটিম ওই স্কুল ছাত্রী বলেন, অভিযুক্ত ধর্ষক সজিব তার বাবার সঙ্গে ভালো সম্পর্কের খাতিরে প্রায় তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। গত কয়েক মাস পূর্বে জীবিকার তাড়নায় তার বাবা চট্রগ্রামে চলে যান। সেখানে তিনি গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তার বাবাকে দেখাশোনা করতে তাকে বাড়িতে রেখে চট্রগ্রাম চায় মা।


ভিকটিম অভিযোগ করে বলেন, তার বাবা-মা বাড়িতে না থাকায় গত ০৩ মে গভীর রাতে অভিযুক্ত সজিব ভিকটিমের বাড়িতে গিয়ে তার বাবার নাম ধরে ডাকাডাকি করেন। এসময় ভিকটিম ঘরের দরজা না খোলায় রাত আরেকটু গভীর হলে সজিব ঘরের দরজার ছিটকিনি ভেঙে বসতঘরে ডুকে ভিকটিমের রুমে গিয়ে তার শরীরে হাত দেয়। এসময় ভিকটিম মোবাইলের লাইট অন করে সজিবকে দেখে চিৎকার দিতে চাইলে সজিব তার মুখ চেপে ধরে এসিডের একটি বোতল বের করে তা নিক্ষেপের ভয় দেখিয়ে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ভিকটিমকে জন্মনিরোধক ঔষধ নরপিল-১ সেবন করিয়ে পালিয়ে যায় সজিব।


ভিকটিমের বাবার অভিযোগ, সবিজ সব সময় তার সঙ্গে চলতেন, সম্পর্কও ছিল ভাল। কিন্ত সজিবের ললুপ দৃষ্টি তার মেয়ের দিকে পড়বে, তা কখনো ভাবেননি তিনি। ঘটনার পর তিনি সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার প্রার্থী হয়েছেন। সেখানে বিচার না পেয়ে গত ৫ মে ভিকটিমকে দিয়ে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলা করার পরও ধর্ষক সজিব এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে এবং মামলা তুলে নিতে তাদেরকে হুমকি দিয়ে আসছে এবং মামলা তুলে না নিলে এলাকা ছাড়া করারও ভয় দেখাচ্ছেন। এই মুহুর্ত্বে মেয়ের জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন এই বাবা।


ভিকটিমের মা বলেন, বাজারের পাশে বাড়ি, ঘরের চারপাশেও আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। স্বামী অসুস্থ হওয়ায় সেই সাহসে মেয়েকে ঘরে রেখে চট্রগ্রামে যান তিনি। কিন্তু কে জানতো মেয়ের এমন সর্বনাশ করবে লম্পট সজিব! ঘটনার পর থেকে লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েটি স্কুল কিংবা বাড়ির বাহিরেও যেতে পারছে না। তার শিক্ষা জীবন নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন এই মা।


স্থানীয়রা বলেন, সবিজ পূর্ব থেকেই বখাটে প্রকৃতির যুবক। সেই দুই সন্তানের জনক। এরপরও অসহায় পরিবারের মেয়েটির সর্বনাশ করেছে। এই ধরনের ঘটনার বিচার না হলে সজিবের মতো অপরাধীরা আরো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠবে। তাই ধর্ষক সজিবের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন এলাকাবাসী।


এদিকে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের বিচার দাবি করেছেন পশ্চিম এওজবালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও। পশ্চিম এওজবালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি শোনার পর তিনি ভিকটিমের পরিবারকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরে তারা আদালতে মামলা করেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ত্বরানিত করতে যেকোন ধরনের সহযোগিতার আশ^াস দেন তিনি।


এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন জানান, স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে একটি মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুয়ায়ী ঘটনাটি তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে ভিকটিমের মেডিকেল টেস্ট করানো হয়েছে।

পড়ুন: দাগনভূঞায় পিকআপ-সিএনজি সংঘর্ষে আহত ২, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

দেখুন: ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন