গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে কৃষকদের নামে ভুয়া একাউন্ট দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের অভিযোগ উঠছে। এ বিষয়ে চারজন নারী কৃষক গত ৩ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। খাদ্য গুদাম থেকে ধান ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া চারজন কৃষক ওই কর্মকর্তা কর্তৃক হয়রানির প্রতিকারও চেয়েছেন।
জানা যায়, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে প্রতিবছর কৃষকদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ করে সরকার। আর এ জন্য অনলাইনে আবেদন করেন কৃষকরা। আবদেনকৃত কৃষকদের মধ্যে করা হয় লটারি। নির্বাচিত কৃষকদের নিকট থেকে জন প্রতি ৩৬ টাকা কেজি হিসেবে ৩ টন ধান সরকারিভাবে ক্রয় করে থাকে খাদ্য গুদাম। কিন্তু এতোসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পর কৃষক নির্বাচিত হলেও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারেননি উপজেলার পূর্ব ছাপড়হাটির কোহিনুর, যার ক্রমিক নং ৪১৮৮৬২০২৯, রোসনা (ক্রমিক নং ৯৯৯৯৭৩০৫৬), আমিনা (ক্রমিক নং ৫৯৩০৪৪৩২৫) ও খামার পাঁচগাছির আনোয়ারা বেগম (ক্রমিক নং ৩৫২১৫৯৩৮৯) নামের ৪ কিষাণী। তারা গুদামে ধান না গেলেও তা ফেরত দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহাফুজুর রশিদ।
কিন্তু ওই চারজন কৃষকের অভিযোগ, ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন তাদের নামে বরাদ্দকৃত ধান আগেই নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, তারা এর আগে কোনো ধান দেননি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখায় এর আগে কোনো একাউন্টসও খোলেননি তারা। বাধ্য হয়ে খাদ্য গুদামের ধান সংগ্রহে অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী কৃষকেরা।
উপজেলা খাদ্য অফিস সুত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় চলতি বছর বোরো ইরি ধান ৮মে থেকে সংগ্রহ শুরু হয়। সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয় ১৩ শত ৯ মেট্রিক। ২৯শে জুনের মধ্য ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা শেষ করা হয়।
ভুক্তভোগী কহিনুর বেগম বলেন, কৃষক প্রতি ৩ টন করে ধান খাদ্য গুদামে বিক্রির জন্য লটারিতে নাম উঠেছে আমাদের। ধান নিয়ে গেলে গুদাম অফিসার বলেন, আপনাদের ধান নেওয়া হয়ে গেছে। অনেক অনুরোধ করার পরেও তিনি ধান নেননি। ফেরত দিয়েছেন। টাকাও নাকি ব্যাংকে দিয়েছে। এখন আমাদের কথা, গুদাম অফিসার উৎকোচের বিনিময়ে আমাদের ধান কার কাছ থেকে নিল? আর ব্যাংকেও আমাদের কোনো একাউন্টস নম্বর খুলি নাই। এই একাউন্টস বা কে খুলল? এর ন্যায্য বিচার চাই।
অভিযোগ রয়েছে, সুন্দরগঞ্জ এলএসডি গুদামের ভারপাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহাফুজুর রশিদ বাহিরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করছেন। এদিকে তালিকাভুক্ত কয়েকজন কৃষক খাদ্যগুদামে একাধিকবার ধান বিক্রি করতে গেলে বরাদ্ধের ধান কেনা শেষ বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।
এমন অভিযোগ মন্ডলের হাট এলাকার ঈসমাইলের । তার ভাষ্য তিনি ধান নিয়ে গেলে বলা হয় ধান কেনা শেষ বলে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। অথচ নিজেই দেখছি, রাতে গাড়িতে করে আসা ধান কিনছেন। তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ধান দিতে পারি নাই। কৃষকের ধান ছাড়াই গুদাম ভরে গেল। এর বিচার কাকে দিব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দরগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহাফুজুর রশিদ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি মিটমাট হওয়ার কথা। আমাকে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে, কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারকে এমন অভিযোগ দিয়েছে কিনা?
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, আমি এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। গত বৃহস্পতিবার খাদ্য কর্মকর্তাকে বিষয়ে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দিয়েছি। তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন: পিরোজপুরে স্বাস্থ্য সহকারীদের অবস্থান কর্মসূচি
দেখুন: হি/ট/লা/রে/র দেশ জার্মানির কাছেই হাত পা/ত/তে হলো ইসরায়েলকে
ইম/


