বিজ্ঞাপন

টানা বৃষ্টিতে ডুবল কিশোরগঞ্জের অনেক জায়গা, হাঁটু পানিতে স্থবির জনজীবন

কিশোরগঞ্জে গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো এখন পানির নিচে। শহরের প্রধান প্রধান রাস্তায় বর্তমানে হাঁটু সমান পানি। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা।

সরেজমিনে আজ বুধবার ২৯ এপ্রিল সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টির ফলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় রাস্তাঘাটে পানি জমে গেছে। বিশেষ করে গাইটাল, নগুয়া, রথখলা, এবং আখড়াবাজার, সংলগ্ন প্রধান সড়কগুলো এখন ছোটখাটো খালে পরিণত হয়েছে।

সকালে স্কুল-কলেজ শুরুর সময়ে শিক্ষার্থীদের প্যান্ট-জামা ভিজিয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে দেখা গেছে। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে রিকশা বা অটোরিকশায় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে সন্তানদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন। সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন। রাস্তার গর্তগুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকায় রিকশা উল্টে অনেককে দুর্ঘটনার শিকার হতেও দেখা গেছে।

রাস্তার পানি উপচে অনেক নিচু দোকানপাটে ঢুকে পড়ায় মালামাল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

রাস্তায় আটকে পড়া এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের এই অবস্থা হয়। ড্রেনগুলো পরিষ্কার না থাকায় পানি নামতে পারছে না। আমরা ট্যাক্স দিই কিন্তু শান্তিতে চলাচল করতে পারি না।

পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারী বর্ষণের কারণে পানি সরতে কিছুটা সময় লাগছে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করতে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য বিশেষ টিম কাজ করছে। তবে অবৈধ দখল ও প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যাওয়াই পানি জমার প্রধান কারণ বলে তারা মনে করছেন।

টানা বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতায় কিশোরগঞ্জবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন চরম বিড়ম্বনার মুখে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টির এই ধারা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এমতাবস্থায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে দুর্ভোগ আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কিশোরগঞ্জে খাল ভরাট হয়ে তীব্র জলাবদ্ধতা: দুর্ভোগে রশিদাবাদের এলাকাবাসী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন