বিজ্ঞাপন

পেঁয়াজের ঝাঁজে পুড়ছে বাজার, বেগুনের কেজি ১৬০

শাক-সবজি থেকে শুরু করে মুরগি, ডিম, চাল, মাছসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দামই এখন ঊর্ধ্বমুখী। তাই বাজারে এসে হাহুতাশ করা ছাড়া উপায় নেই সাধারণ ক্রেতাদের। তারা বলছেন, গত কয়েকমাস স্থিতিশীল ছিল নিত্যপণ্যের বাজার। তবে গত জুলাই থেকে ফের বাড়তে শুরু করে দাম। বাড়তে বাড়তে এখন সেটি ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩২০-৩৪০ টাকা, সাদা কক ৩০০ টাকা, লাল কক ২৮০-৩০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে মুরগির। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা দিদার বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ছে। তবে সোনালি ও অন্যান্য মুরগির দাম কিছুটা ওঠানামা করছে।

ডিমের বাজারেও লেগেছে আগুন। গত মাস খানেক ধরে বাড়ছে দাম। বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়; যা গত সপ্তাহেও ছিল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া প্রতি ডজন সাদা ডিম ১৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে; যা গত সপ্তাহেও ছিল ১৩৫-১৪০ টাকা। আর প্রতি ডজন হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়।

তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায়।

বাজারে ওঠানামা করছে সবজির দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় হাতেগোণা কয়েকটি সবজির দাম কমলেও বেড়েছে বেশিরভাগের। বর্তমানে প্রতিকেজি গোল বেগুন ১৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০-৮০ টাকা, টমেটো ১৭০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৭০-৮০ টাকা, পটল ৬০-৭০ টাকা, ধুন্দল ৪০-৫০ টাকা, কচুর মুখী ৬০ টাকা, শসা ৫০-৭০ টাকা ও পেঁপে ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, গাজর ৭০ টাকা, পেঁয়াজ ৮০ টাকা, আলু ২০-২৫ টাকা, ধনেপাতা ৩০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা ও উচ্ছে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি পিস চালকুমড়া ৬০ টাকা ও প্রতি পিস লম্বা লাউয়ের জন্য গুনতে হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

সবজির পাশাপাশি দাম চড়েছে সব ধরনের শাকেরও। প্রতি মুঠো লাউ শাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও পুঁইশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি আঁটি ডাঁটাশাক ২০-২৫ টাকা, কলমি শাক ১৫ টাকা, লালশাক ২০-৩০ টাকা ও পাটশাক ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে বাজারে কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। বর্তমানে প্রতিকেজি ভারতীয় কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা ও দেশি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। গত সপ্তাহেও এর দাম ছিল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা বলছেন, ভারত থেকে প্রচুর কাঁচা মরিচ আমদানি হচ্ছে। এতে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমছে।



এদিকে নতুন করে বেড়েছে মসুর ডাল ও আটার দাম। প্রতিকেজি খোলা আটা ৪৫ থেকে ৫০ এবং প্যাকেট আটা ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মসুর ডাল কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা পর্যন্ত; বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। আর ভারতীয় মসুরির ডাল কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা; বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১০৫ টাকায়।



ভারত থেকে আমদানির প্রভাবে বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৮৫ ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুনের কেজি ৮০ থেকে ১২০ এবং আমদানি করা রসুনের কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আমদানির প্রভাব পড়েনি চালের বাজারে। বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামেই। রাজধানীর কারওয়ানবাজারের চাল ব্যবসায়ী রাকিব বলেন, নতুন করে দাম বাড়েনি। তবে কমারও কোনো সুখবর নেই। বর্তমানে মিনিকেট চালের কেজি ৮২-৮৫ টাকা, নাজিরশাইল ৮৫-৯২ টাকা এবং মোটা চাল ৫৬-৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, মাছের বাজারে তেমন একটা দাম না বাড়লেও বিক্রি হচ্ছে আগের চড়া দামেই। বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকায়। আর ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকায়।



এছাড়া প্রতিকেজি বোয়াল ৭৫০-৯০০ টাকা, কোরাল ৮৫০ টাকা, আইড় ৭০০-৮০০ টাকা, চাষের রুই ৩৮০-৪৫০ টাকায়, কাতল ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০-২২০, পাঙাশ ১৮০-২৩০, কৈ ২০০-২২০ এবং পাবদা ও শিং বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়। আর চাষের ট্যাংরা প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, কাঁচকি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা ও মলা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পড়ুন: বেড়েছে চাল-ডিমের দাম, সবজি ৮০ টাকার ওপরে

এস/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন