বিজ্ঞাপন

ভৈরবে ৭ মাসের শিশুর লাশ উদ্ধার: বাবার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ, পলাতক দাদি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৭ মাস বয়সী এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার দাদিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তারা দুজনই পলাতক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শিশুর নাম তানভির ওরফে মোজাহিদ।

পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানক্ষেত সংলগ্ন একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ভৈরব থানার এক কর্মকর্তা জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে মেরাজ মিয়ার সঙ্গে তাসলিমা বেগমের বিয়ে হয়। সাত মাস আগে তাদের ঘরে জন্ম নেয় এই শিশু। মেরাজ পেশায় অটোরিকশাচালক হলেও তার বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত।

প্রায় ১০ দিন আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে মেরাজ নিজ বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী-সন্তানসহ শ্বশুরবাড়িতে ওঠেন। তবে সেখানেও কলহ থামেনি।

এক সপ্তাহ আগে শিশুটির দাদি রাবেয়া বেগম চিকিৎসার কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে যান। এরপর কয়েকদিন ধরে শিশুটির খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে জানানো হয়, শিশুটিকে নাকি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে—যা নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, ২২ এপ্রিল রাতে মেরাজ মিয়া নিজেই স্বজনদের জানান যে তিনি শিশুটিকে ডোবায় ফেলে দিয়েছেন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা গিয়ে ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন।

শিশুটির মা তাসলিমা বেগম দাবি করেন, তার স্বামী প্রায়ই তাকে ও তার সন্তানকে হত্যার হুমকি দিতেন। ঘটনার আগের দিনও ফোনে এমন হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি এই ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সিংগাইরে নারীর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু নিয়ে রহস্য

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন