ঢাকার ধামরাইয়ে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজন ডাম্প ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ডাম্প ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ধামরাই থানার পক্ষ থেকে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। এর আগে রবিবার গভীর রাতে মাটি পরিবহনের সময় অভিযান চালিয়ে দুই ট্রাকচালক ও এক জন ভেকু চালক কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়াও দুটি ডাম্প ট্রাক জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আবু বক্কর সিদ্দিক, মো. হৃদয় ও আবু রায়হান। এরা সবাই ডাম্প ট্রাকচালক।
মামলার এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিরা হলেন, উপজেলার খাগাইল এলাকার মো. ইদ্রিস আলী, মহিষাষী গ্রামের রাতুল, শোলধন গ্রামের জুয়েল, মধুডাঙ্গা গ্রামের রাফি মোহাম্মদ সজিব এবং সুরুজ আহমেদ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সিন্ডিকেট ও কিছু ইটভাটা মালিকের যোগসাজশে ধামরাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানা সত্ত্বেও আইনের কার্যকর প্রয়োগ না হওয়ায় এ অবৈধ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দিন দিন কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদনও হ্রাস পাচ্ছে।
তাদের মতে, অনেক জমির মালিক সাময়িক আর্থিক লাভের আশায় জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে শুধু সংশ্লিষ্ট জমিই নয়, আশপাশের কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিজমির এই নীরব ধ্বংস ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একটি অংশ এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় সাধারণ কৃষকরা প্রতিবাদ করতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হন। উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ভেকু ও ট্রাক জব্দ করলেও জরিমানা দিয়ে সংশ্লিষ্ট চক্রগুলো পুনরায় মাটি কাটা শুরু করে। ফলে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
এবিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আল মামুন বলেন, ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে প্রায় প্রতি রাতেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভেকু ও ট্রাক জব্দ করে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। তারপরও পুরোপুরি এ কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, কৃষিজমির মাটি কেটে নেওয়ার ফলে ধামরাইয়ের অনেক এলাকা জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্যও উপযুক্ত জমি পাওয়া যাচ্ছে না। অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পড়ুন : জিও এবং পিএসপি ব্যাগ দিয়ে পদ্মার ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না


