নেত্রকোনা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) উপ-পরিচালক শাহ আলমের বিরুদ্ধে সরকারি নিয়ম অমান্য করে বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, অফিসের গেস্ট রুমে বসবাস করেও সরকারি বাড়িভাড়া উত্তোলন এবং জনসম্মুখে ধূমপানসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৩ মে) সরেজমিনে তার কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
সরকারি নিয়ম মোতাবেক সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও রবিবার দুপুরে তার কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদক দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রায় ঘণ্টাখানেক অফিসে অবস্থান করলেও তার দেখা মেলেনি এবং তাকে একাধিকবার মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অফিস সহকারী মো. আল মামুন ও নাম না প্রকাশের শর্ত আরেক স্টাফের মতে, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসেন এবং প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রবিবার দিন তিনি সাধারণত অফিসে আসেন, তবে প্রায়ই দেরি করে আসেন। অফিসের থাকলেও প্রায় সময়ই গেস্ট রুমে অবস্থান করেন। অফিস স্টাফরা অফিসিয়াল প্রয়োজনে ফোন দিলে একই অফিসের তৃতীয় তলার গেস্ট রুম থেকে দ্বিতীয় তলায় অফিস কক্ষে আসেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. হাবেজ আহমেদকে জানানো হলে তিনি নিশ্চিত করেন, উপপরিচালক শাহ আলম রবিবারের জন্য তার কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ছুটি নেননি।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো সরকারি বাসস্থানের অপব্যবহার। জানা যায়, উপপরিচালক শাহ আলম গত ছয়-সাত মাস যাবত অফিসের গেস্ট রুমে একাই বসবাস করছেন। তিনি গেস্ট রুমের জন্য নির্ধারিত কোনো ভাড়া পরিশোধ করেন না। অথচ গেস্ট রুমে বিনা ভাড়ায় থাকার পরও তিনি সরকারি বাসা ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত অর্থ নিয়মিত উত্তোলন করছেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, নবম গ্রেডে তার মূল বেতন ৪৫ হাজার টাকা এবং বাসা ভাড়া ১৬ হাজার টাকাসহ তিনি প্রায় ৬৮ হাজার টাকা বেতন পান। একজন কর্মকর্তা হয়েও অতিথিদের জন্য নির্ধারিত গেস্ট রুমে দিনের পর দিন বসবাস করার বিষয়টি ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালককেও অবাক করেছে।
শুধু আর্থিক অনিয়ম বা অনুপস্থিতিই নয়, তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ধূমপানের মতো অশোভন আচরণের অভিযোগও রয়েছে। অফিসের এক কর্মচারী জানান, তিনি অফিস চলাকালীন সময়ে ভেতরে ও বাইরে এবং আনন্দবাজারের চায়ের স্টলে বসে প্রকাশ্যে ধূমপান করেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে সরাসরি ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. হাবেজ আহমেদকে ফোনে অবহিত করেন। উপপরিচালকের বিনা ছুটিতে অনুপস্থিতি, ফোন রিসিভ না করা এবং স্থায়ী পদে থেকে গেস্ট রুমে থেকে বাড়িভাড়া তোলার বিষয়টি জেনে পরিচালক বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি প্রতিবেদককে জানান, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পড়ুন : নেত্রকোনায় নৌকা থেকে চোরাই গরু নামানোর সময় জনতার হাতে আটক ৩


