বিজ্ঞাপন

সৈয়দপুরে মসজিদের দান বাক্সে জোড়া স্বর্ণের দুল

মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল নীলফামারীর সৈয়দপুর শহর। শহরের সাহেবপাড়া (হানিফ মোড়) এলাকার মসজিদে আলীতে দানবাক্স খুলে মিলেছে এক জোড়া স্বর্ণের দুল, নগদ ৭ হাজার টাকা এবং সঙ্গে একটি হৃদয়স্পর্শী চিরকুট, যেখানে এক অসহায় সন্তানের মায়ের জন্য দোয়ার আকুতি ফুটে উঠেছে।

চিরকুটে লেখা ছিল, আমার আম্মু অসুস্থ আছে, আপনারা দোয়া করেন যেনো সুস্থ হয়ে যায়। সংক্ষিপ্ত এই বাক্যটি উপস্থিত সবার হৃদয়ে নাড়া দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, মায়ের সুস্থতার আশায় কোনো সন্তান নিঃশব্দে এই দানটি করে গেছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাজাদা আলম জানান, প্রতি দুই মাস অন্তর শুক্রবার রাতে কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলা হয়। মসজিদ কমিটির সদস্যরা নিয়ম অনুযায়ী দানবাক্স খোলার সময় এই বিশেষ দানটি পান। এবার দানবাক্সে একটি রঙিন কাগজে মোড়ানো অবস্থায় স্বর্ণের কানের দুল ও চিরকুটটি পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, “চিরকুটের লেখাটি পড়ে আমরা আবেগপ্লুত হয়ে পড়ি। এটি শুধু একটি দান নয়, বরং এক সন্তানের মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও অসহায়ত্বের প্রকাশ। আমরা স্থানীয় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মাধ্যমে দুলটির মূল্য যাচাই করে জানতে পারি, এর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৪ হাজার টাকা।

মসজিদের ইমাম হাফেজ আখতার বলেন, এই দান আমাদের সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। আমরা শুধু দানের মূল্য দেখি না, এর পেছনের নিয়তটাই বড়। যিনি দান করেছেন, আল্লাহ যেন তার মায়ের সুস্থতা দান করেন। আমরা সবাই তার জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করি।

মসজিদ কমিটির সভাপতি ওমান গনীসহ কমিটির সদস্যরা জানান, মসজিদের চলমান উন্নয়ন কাজে এই দান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তবে তার চেয়েও বড় বিষয় হলো এই ঘটনা সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দানের প্রকৃত সৌন্দর্যকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে নবনির্মিত এই মসজিদের ওযুখানার ছাদ ঢালাই জরুরি হয়ে পড়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে মসজিদের হিসাব নম্বর ১১০৮০০০৭০৭২২৯ (যমুনা ব্যাংক, সৈয়দপুর শাখা) অনুদান দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে কোন সন্তানের এরুপ নীরবে, নিভৃতে করা এমন একটি দান যেনো মনে করিয়ে দেয় মানবতার আলো এখনো নিভে যায়নি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : দিনাজপুর জেলা আইনজীবি সমিতির বার্ষিক বাজেট সভা অনুষ্ঠান

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন