বিজ্ঞাপন

২ কোটি টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক নাহিদ, দেশ ছাড়ার পাঁয়তারা

দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতা, দুস্থদের ভিজিডির চাল এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ধার দেওয়া টাকাসহ প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়েছেন ময়মনসিংহের ১নং অষ্টধার ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের ময়মনসিংহ জেলা সভাপতি হিসেবেও পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

তার এই অভিনব প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, শত শত মানুষকে পথে বসিয়ে আত্মসাৎ করা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে যেকোনো মুহূর্তে দেশ ত্যাগ করার পাঁয়তারা করছেন অভিযুক্ত নাহিদ ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার কর্তৃক দুস্থ ও অসহায় নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডি/ভিডব্লিউবি কার্ড এবং মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা হাতিয়ে নিতে নাহিদ অত্যন্ত সুকৌশলী ছিলেন। তিনি সহজ-সরল ওইসব নারীদের কাছ থেকে টিপসই বা স্বাক্ষর নিয়ে, ভাতার ফর্মে গ্রাহকের মোবাইল নম্বর বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জায়গায় নিজের নম্বর ও অ্যাকাউন্ট বসিয়ে দিতেন। ফলে সরকারের পাঠানো টাকা সরাসরি তার পকেটে চলে যেত।

শুধু সরকারি ভাতাই নয়, নাহিদের এলাকায় ‘স্বর্ণা টাইলস’ নামের একটি স্যানিটারির দোকান ছিল। এলাকাবাসী তাকে একজন ‘সুন্দর ও ভদ্র ছেলে’ হিসেবেই জানত। এই পরিচ্ছন্ন ইমেজের সুযোগ নিয়ে এবং নিজের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি এবং বিকাশের দোকান থেকে ব্যবসার কথা বলে দফায় দফায় লাখ লাখ টাকা ধার নেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সম্প্রতি তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
প্রতারণার শিকার দরিদ্র নারী ও নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা এখন পথে বসার উপক্রম। তারা ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং থানায় একাধিক মামলাও দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে অষ্টধার ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক আরজু বলেন, “শত শত মানুষের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া ইউপি উদ্যোক্তা মো. নাহিদ ইসলামকে আমরা বারবার লিখিত চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু তিনি কোনো চিঠিরই জবাব দেননি।”

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি জানান, “অষ্টধার ইউনিয়নের উদ্যোক্তা নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতারণার বিষয়টি আমরা জেনেছি। তার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি—প্রতারক নাহিদ ইসলাম দেশ ত্যাগ করার আগেই তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং আত্মসাৎ করা অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে অসহায় মানুষগুলোকে বাঁচানো হোক।

পড়ুন: বসতঘরের পাশে মাদকের আসর: নেত্রকোনায় ৩ জনের অর্থদণ্ডসহ সাজা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন