বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে ঠাকুরগাঁওয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। উৎসবকে ঘিরে শহরজুড়ে বইছে প্রাণের উচ্ছ্বাস, লাল-সাদার রঙে সেজেছে চারপাশ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বর্ষবরণের মূল আয়োজন শুরু হয় শহরের আদালত চত্বরের বটতলায়, নিক্বণ সংগীত বিদ্যালয়ের সুরের মূর্ছনায়। দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করে আসা এই সংগঠনটি আয়োজন করে আসছে প্রভাতি অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানকে ঘিরে বটতলা সাজানো হয় বর্ণিল সাজে, আর ছায়ানটের আদলে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ।
মঙ্গলবার ভোরে নতুন বছরের প্রথম সূর্যকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে ও রাগভৈরবীর সুরে শুরু হয় বর্ষবরণ। এরপর পর্যায়ক্রমে পরিবেশিত হয় সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক আয়োজন। কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ সেন ও রজনীকান্ত সেন—এই পঞ্চকবির গান পরিবেশনের পাশাপাশি থাকবে আবৃত্তি, তবলা, সেতার ও সরোদের মনোমুগ্ধকর যন্ত্রসংগীত।
এছাড়া লালনসংগীত, লোকগান ও ভাওয়াইয়া পরিবেশনা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলে।
নিক্বণের এই ঐতিহ্যবাহী প্রভাতি অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে বের হবে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ। গ্রামীণ ঐতিহ্য, মুখোশ ও রঙিন ব্যানারে শোভাযাত্রা হয়ে উঠবে বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ।
এছাড়া দিনব্যাপী চলবে বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন আয়োজন। শহরের বিভিন্ন স্থানে বসবে লোকজ পণ্যের দোকান, খাবারের স্টল এবং শিশু-কিশোরদের জন্য থাকবে নানা বিনোদনমূলক কার্যক্রম।
সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
আয়োজকরা জানান, নববর্ষ শুধু উৎসব নয়—এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐতিহ্য ও নতুন আশার প্রতীক।
আনন্দ, সম্প্রীতি ও নতুন স্বপ্নের বার্তা নিয়ে ঠাকুরগাঁওবাসী বরণ করে নিচ্ছে নতুন বছর—“শুভ নববর্ষ ১৪৩৩”।
পড়ুন- কুমিল্লায় ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, নিহত ৭
দেখুন- ইরানের নিয়ন্ত্রণে হরমুজ, হা/ম/লা/র পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র!


