বিজ্ঞাপন

টেপ-টেনিস ক্রিকেট: লাখ টাকার মৌসুম, কোটি টাকার নীরব অর্থনীতি

বাংলাদেশে টেপ-টেনিস ক্রিকেট দীর্ঘদিন ধরে পাড়া-মহল্লার বিনোদন হিসেবেই পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই খেলাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক কিন্তু কার্যকর অর্থনৈতিক কাঠামো, যা অনেক তরুণের জন্য আয়ের নতুন পথ খুলে দিচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টেপ-টেনিস ক্রিকেটে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়রা এখন মৌসুমভিত্তিক উল্লেখযোগ্য আয় করছেন। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মধ্যে কেউ কেউ বছরে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন, যা এক দশক আগেও কল্পনাতীত ছিল। তখন ম্যাচপ্রতি পারিশ্রমিক ছিল হাজার-দু’হাজার টাকার মধ্যে; বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে তা বেড়ে ১৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।

এই পরিবর্তনের পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে স্থানীয় টুর্নামেন্ট ও স্পন্সরশিপ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিতভাবে ছোট-বড় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে পুরস্কারের পরিমাণ এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় এসব আয়োজন ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।

টেপ-টেনিস ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ‘খ্যাপ’ পদ্ধতি, যেখানে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ম্যাচের জন্য দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই ব্যবস্থায় ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দ্রুত পরিচিতি ও আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ এই খেলাকে আয়ের সহায়ক উৎস হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ মাসে কয়েক দশ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারছেন, যা তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যয়ে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

তবে এই খাতের বিস্তার যেমন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়, তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। টেপ-টেনিস ক্রিকেট এখনো সম্পূর্ণ অপ্রাতিষ্ঠানিক—এখানে নেই কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা, নির্দিষ্ট চুক্তি বা খেলোয়াড়দের জন্য বীমা ব্যবস্থা। ফলে চোট কিংবা অন্যান্য ঝুঁকির ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না।

এছাড়া প্রথাগত ক্রিকেট কাঠামোর বাইরে থাকা অনেক খেলোয়াড় এই খাতে যুক্ত হলেও, এটি দীর্ঘমেয়াদি পেশা হিসেবে কতটা স্থিতিশীল—তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংগঠিত কাঠামো ছাড়া এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই নাও হতে পারে।

অন্যদিকে, টেপ-টেনিস ক্রিকেট তরুণদের জন্য একটি ইতিবাচক সামাজিক ভূমিকা রাখছে বলেও মনে করা হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে, তেমনি অনেককে অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখতেও সহায়তা করছে।

সব মিলিয়ে, টেপ-টেনিস ক্রিকেট এখন আর শুধুই পাড়ার খেলা নয়; এটি ধীরে ধীরে দেশের ক্রীড়া অর্থনীতির একটি অংশে পরিণত হচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনাকে স্থায়ী রূপ দিতে হলে প্রয়োজন নীতিমালা, তদারকি এবং একটি সুসংগঠিত কাঠামো—যার অভাব এখনো স্পষ্ট।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : শিরোপার দ্বারপ্রান্তে বার্সেলোনা, ‘পাসিও’ দেবে কী রিয়াল মাদ্রিদ?

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন