মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে পরিবহন শ্রমিকরা। চালক ও সুপারভাইজারকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
রবিবার দুপুরে মেহেরপুর থেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে গোল্ডেন ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে যায়। বাসটি আমঝুপি বাজার এলাকায় পৌঁছালে একই পথে চলাচলরত একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী রাব্বি বাসের চালক সোহেল রানা ও সুপারভাইজারকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পরপরই পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে মেহেরপুর জেলা বাস মালিক ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এদিকে, হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। জরুরি কাজে গন্তব্যে যেতে না পেরে বিকল্প যানবাহনের খোঁজে ছুটতে হচ্ছে তাদের। অতিরিক্ত ভাড়ায় ইজিবাইক ও ভ্যানগাড়িতে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। এতে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েছেন যাত্রীরা।
যাত্রীরা জানান, হঠাৎ করে বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন। প্রয়োজনীয় কাজে বের হলেও নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।
অন্যদিকে, শ্রমিকরা বলছেন, সড়কে তারা প্রায়ই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করেন। চালক ও সুপারভাইজারের ওপর হামলার ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ। হামলাকারীদের দ্রুত শাস্তি ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান বলেন, শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।
সংগঠনটির সভাপতি আহসান হাবীব সোনা বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা দ্রুত সমস্যা সমাধান করে মহাসড়কে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
পড়ুন:ঢাকা বাইপাস সড়কে ২০ বছর ধরে নির্মাণ ভোগান্তি;
দেখুন:হাইডেলবার্গ: বাস্তবের চেয়েও সুন্দর?
ইমি/


