বিজ্ঞাপন

তেতুলিয়ায় শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদে চার মাস ধরে নাগরিক সেবা ব্যাহত

পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম এবং তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরুর সাথে প্রকল্প বরাদ্দ নিয়ে মতবিরোধের জের ধরে গত চার মাস ধরে ইউনিয়ন বাসীর নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে নাগরিকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সেই সাথে অতি দ্রুত নাগরিক সেবা দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা। প্রায় থমকে আছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছে মতবিরোধ নেই। চেয়াম্যানকে যোগদানের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ৪ নং শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদ। হাজার হাজার একর চা বাগান এবং বিখ্যাত গরু ব্যবসায়ী সহ নানান শ্রেনী পেশার প্রায় ত্রিশ হাজার জনগোষ্ঠীর বসবাস এই ইউনিয়নে। গতবছরের অক্টোবর মাসে ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুলের সাথে শালবাহান হাট উন্নয়নের বরাদ্দ নিয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে মতবিরোধ শুরু হয় । এর ফলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরু ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুলের বিরূদ্ধে থানায় মামলা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ পাঠায়।

পরবর্তিতে জেলা প্রশাসক তদন্ত করে আশরাফুলের মামলার সাজা না পাওয়ায় অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হয়। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুলকে মৌখিক ভাবে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখেন। তবে চেয়ারম্যানকে বহিস্কার করা হয়নি। এতে করে গত জানুয়ারি মাস থেকে আশরাফুল ইসলাম নাগরিক সেবার কোন কাগজে স্বাক্ষর করতে পারছেনা এমনকি অফিসিয়ালি তাকে কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড বুঝিয়ে না দেওয়ায় সেবা দিতে পারছেনা ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম। এতে প্রায় সময় বন্ধ থাকছে ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষগুলো। জন্মনিবন্ধন, চা শ্রমিকের প্রনোদনা, হাট বাজার ইজারা, নাগরিকত্ব সনদ সহ গরু বিক্রির অনুমোদন পাচ্ছেনা ইউনিয়নবাসী। একপ্রকার শুনশান নীরবতা পরিষদটিতে। এমনকি পরিষদের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বন্ধ হয়েছে মাসিক বেতন। এই অবস্থা থেকে পরিত্রান চায় ইউনিয়নবাসী।

শালবাহান ইউয়নিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম জানান, মন্ত্রনালয় এবং জেলা প্রশাসন থেকে আমার বিরূদ্ধে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই , মৌখিকভাবে আমাকে ইউএনও সেবা দিতে বিরত রেখেছেন। বার বার মৌখিক নিষেধাজ্ঞার কারন জানতে চেয়েও কোন সদুত্তর পাইনি। আমাকে কোন বহিস্কারের চিঠিও দেওয়া হচ্ছেনা। অতি দ্রুত আমার উপর থেকে মৌখিক নিষ্ধোজ্ঞা তুলে দিয়ে কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড দিতে অনুরোধ করেছেন।

তেতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরু বলেন, আমার সাথে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের কোন দ্বন্দ নেই। তবে তাকে যোগদানের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : দোহারে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন