তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই কড়া হুশিয়ারি দিলেন থালাপতি বিজয়। তিনি উল্লসিত জনতার সামনে উঠে দাঁড়ালেন এবং তার নবীন প্রশাসনের সবচেয়ে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাটি দিলেন। বিজয় বললেন, ‘কেউ যেন এমনটা না ভাবেন যে, আমরা ক্ষমতায় এসেছি বলেই এখন যা খুশি তাই করতে পারি। এমন চিন্তা মনেও রাখবেন না। সব ঝেড়ে ফেলুন। ক্ষমতার কেন্দ্র একটাই থাকবে, আর সেটা আমি।’
রোববার (১০ মে) সকালে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সি জোসেফ বিজয়। এরপর তিনি তিনটি ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন, যেগুলো তিনি চেয়েছিলেন রাজ্যবাসী যেন প্রথমে দেখে: গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, হেল্পলাইনসহ নারী সুরক্ষার জন্য একটি বিশেষ বাহিনী এবং রাজ্যব্যাপী একটি মাদকবিরোধী ব্যবস্থা।
তামিলনাড়ুর একজন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য এটি ছিল এক ব্যতিক্রমী প্রথম দিন, যা ছিল রাজনৈতিক পালাবদল, গণ-প্রদর্শনী এবং একজন তারকা ও তার দর্শকের মধ্যে কয়েক দশক দীর্ঘ চলচ্চিত্র সম্পর্কের আবেগঘন সমাপ্তির এক আবহ।
আর বিজয় নিজেকে অন্য কিছু হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিলেন: তা হলো, এমন একজন মানুষ যিনি একটি বিধ্বস্ত রাজ্যের উত্তরাধিকারী হয়েছেন এবং তা পুনর্গঠনের জন্য সময় চাইছেন।
‘রাজ্যটি এক শোচনীয় অবস্থায় পড়ে আছে,’ বিজয় বলেন এবং পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকারের আমলে তামিলনাড়ুর আর্থিক অবস্থার ওপর একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেন। ‘আমি প্রথমে শ্বেতপত্রটি প্রকাশ করব। পূর্ববর্তী সরকার আমাদের ওপর ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ রেখে গেছে।’
বিজয়ের বক্তৃতাটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ এবং প্রশাসনিক সতর্কবার্তা নিয়ে করা হচ্ছিল। কারণ বিজয় একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে হিসেবে বেড়ে ওঠেছেন। ‘দারিদ্র্য ও ক্ষুধা’ চেনা এবং ‘রাজবংশীয়’ না হওয়ার কথা বলেন তিনি। তিনি শ্রোতাদের মনে করিয়ে দেন যে, সিনেমায় প্রবেশের আগে তাকে অপমান ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের ছেলের মতো, আপনাদের ভাইয়ের মতো। আপনারা আমাকে আপনাদের হৃদয়ে স্থান দিয়েছেন।’
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি এমনভাবে এগিয়ে চলে, যেন একটি রাজনৈতিক সমাবেশ ও একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী একই ফ্রেমে মিশে গেছে। সকাল ৯টার মধ্যেই স্টেডিয়ামটি টিভিকে কর্মী, চলচ্চিত্রপ্রেমী, সহযোগী এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের দিয়ে ভরে উঠতে শুরু করেছিল। অভিনেত্রী তৃষা এসে পৌঁছালেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লি থেকে উড়ে এসে মঞ্চে নিজের আসনে বসলেন। বিজয়ের বাবা-মা দর্শকদের মধ্যে বসেছিলেন। বিশাল পর্দায় উল্লসিত সমর্থকদের জন্য দৃশ্য সম্প্রচারের মধ্যেই টিভিকে-র ঊর্ধ্বতন নেতারা মঞ্চে আসা-যাওয়া করছিলেন।
পড়ুন : বিজয়ের মন্ত্রিসভার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য কীর্তনা সম্পর্কে যা জানা গেল


