মেহেরপুরে অনলাইন ক্যাসিনো ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশন চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে আরও এক এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর মুজিবনগরের কোমরপুর বাজার থেকে মাসুদ রানা নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া মাসুদ রানা মুজিবনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি কোমরপুর বাজারের ‘রোজ ফ্যাশন’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক।
ডিবি পুলিশ জানায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মুজিবনগর থানায় অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২০(২)/২৪(২)/২৭(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। প্রথমে মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও তদন্তে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
মামলার ১১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মাসুদ রানা গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তবে গোপনে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতেন বলে তথ্য পায় ডিবি।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল কোমরপুর বাজারে অভিযান চালায়। মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোরশেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘রোজ ফ্যাশন’ ঘেরাও করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সেখান থেকে মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এর আগে একই মামলায় অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্ট মুকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আরও ১৫ জনকে মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ডিবি সূত্র বলছে, মামলার অধিকাংশ আসামিই এখনও পলাতক রয়েছেন। এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও একজন জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোরশেদ চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দকৃত মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা বা জুয়া সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে নতুন মামলা করা হবে।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
পড়ুন- আন্তর্জাতিক নার্স দিবসে নোয়াখালীতে র্যালি ও আলোচনা সভা


