বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে মানবিকতার পাঠ দিলেন ডিসি জাহিদ

আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল নার্সিং ইনস্টিটিউট ও নার্সিং কলেজে এক ব্যতিক্রমধর্মী সফরে গিয়ে মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও সেবার দর্শন তুলে ধরলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বিজ্ঞাপন

কেবল আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি তিনি। হাসপাতালের বহিঃবিভাগ থেকে শুরু করে আইসিইউ, ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, অটিজম ইউনিট—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ঘুরে দেখেছেন, রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন, চিকিৎসক-নার্সদের কাজ পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং নবীন নার্সদের সামনে মানবিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন তুলে ধরেছেন।

জেলা প্রশাসকের এই দীর্ঘ সফর শেষে হাসপাতালজুড়ে ছিল এক ধরনের প্রশংসার আবহ। চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষার্থী, রোগী ও স্বজনরা তাঁর আন্তরিকতা ও সময় দেওয়ার মানসিকতায় মুগ্ধ হয়ে ওঠেন।

হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নার্সিং সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ডা. কামরুন নাহার দস্তগীর বলেন,“উনার অনেক ব্যস্ততা ছিল। তারপরও তিনি দীর্ঘ সময় আমাদের সঙ্গে ছিলেন। সাড়ে ১১টায় চলে যাওয়ার কথা থাকলেও প্রায় দুই ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। নার্সিং পেশা নিয়ে তিনি অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক কথা বলেছেন, যা সবাইকে উৎসাহিত করেছে।”

হাসপাতালের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন বলেন, জেলা প্রশাসক হাসপাতালের প্রায় সব বিভাগ ঘুরে দেখেছেন এবং চিকিৎসক, নার্স ও রোগীদের সঙ্গে দীর্ঘসময় কথা বলেছেন।

তিনি বলেন,“হাসপাতালের সেবার মান ও পরিচ্ছন্নতা দেখে তিনি খুব প্রশংসা করেছেন। উনি বলেছেন, এই হাসপাতালের নাম আগে জানতেন, কিন্তু এত বড় ও এত সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান তা পরিদর্শনে এসে বুঝতে পেরেছেন।”

দিনটির সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল জেলা প্রশাসকের মানবিকতাকেন্দ্রিক বক্তব্য। নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,“মেধাবীরা যখন মানবিক হন, তখন সমাজ ও রাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়।”

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ মানুষ দিয়ে কখনো সুস্থ সমাজ গঠন সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসক ও নার্সদের মানবিক সেবা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে তিনি নার্সদের “মানবতার দেবদূত” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমরা মানুষ, আমরা কোনো দানব নই, আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নই। আমরা অসুস্থ হই, হাসপাতালে আসি সেবা নিতে। তখন নার্সরাই হাসিমুখে আমাদের সুস্থ করে তোলেন।”
ভাষণে তিনি একের পর এক উপমা ব্যবহার করে মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

“সূর্যের যদি তাপ না থাকে, তাহলে যেমন সূর্যের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, সমুদ্রের গর্জন না থাকলে যেমন সমুদ্রের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, তেমনি মানুষের মধ্যে মানবিকতা না থাকলে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে আমাদের দাবিও অর্থহীন হয়ে যাবে।” হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক শিশুদের এনআইসিইউ, পিআইসিইউ, এডাল্ট আইসিইউ ও ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ঘুরে দেখেন। ক্যান্সার ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অটিজম ইউনিটে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে কথা বলে তিনি খাদ্যে ভেজাল, পরিবেশ দূষণ ও করোনা-পরবর্তী জেনেটিক পরিবর্তনের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন,“খাদ্যাভ্যাস, পানি ও পরিবেশ নিয়ে আমরা অসচেতন হয়ে পড়ছি। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে হাসপাতালের বেডই মানুষের জীবনের বড় অংশ হয়ে যেতে পারে।”

জীবনের বাস্তবতা উপলব্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,“প্রতিটি মানুষেরই উচিত প্রতি মাসে অন্তত একবার হাসপাতাল ও কবরস্থানে যাওয়া। তাহলেই আমরা জীবনের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারব।”

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে এই প্রথম মা ও শিশু হাসপাতালে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এখানে আসার আগে চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার মনে যে ধারণা ছিল, এখানে এসে তা পুরোপুরি বদলে গেছে। এত সুন্দর পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও মানুষের প্রতি আন্তরিকতা দেখে আমি সত্যিই অভিভূত।”

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান রানা, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি মো. জাহিদুল হাসান, ট্রেজারার অধ্যক্ষ ডা. লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নূরুল হকসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

এর আগে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পরে নবাগত শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ করানো এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয়।

পড়ুন: চীন সফরে গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন