স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবি এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। যদিও তিনি এখনই পদত্যাগ না করার অবস্থানে অনড় রয়েছেন, তবে লেবার পার্টির ভেতরে তাকে সরানোর জন্য তৎপরতা চলছে।
দলীয় নিয়ম অনুযায়ী নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ২০ শতাংশ সংসদ সদস্যের (৮১ জন) সমর্থন সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
স্টারমার শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে লেবার পার্টির কয়েকজন শীর্ষ নেতা এগিয়ে রয়েছেন।
প্রথমেই আলোচনায় আছেন বর্তমান স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং। দলের মধ্যপন্থী অংশের প্রভাবশালী এই নেতা সংসদ সদস্যদের বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার। তিনি দলের তৃণমূল ও বামঘেঁষা অংশের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। স্টারমারকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক চাপের সময় তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, যা তাকে আলোচনায় আরও সামনে এনেছে।
তৃতীয় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। তিনি দলের উত্তরাঞ্চলীয় ও বামঘেঁষা অংশের মধ্যে জনপ্রিয় হলেও বর্তমানে তিনি সংসদ সদস্য না হওয়ায় তার প্রধানমন্ত্রিত্বের পথে বড় বাধা রয়েছে।
চতুর্থ স্থানে আছেন সাবেক লেবার নেতা ও বর্তমান জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। অতীতে নির্বাচনে পরাজয়ের অভিজ্ঞতা থাকায় তাকে অনেকেই অন্তর্বর্তী বা সমঝোতামূলক নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচনা করছেন।
পঞ্চম হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি দলের ভেতরে একাংশের সমর্থন পাচ্ছেন এবং তার নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের ভবিষ্যৎ এবং লেবার পার্টির নেতৃত্ব ঘিরে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে, যা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।
পড়ুন: ইরানের ভেতরে গোপন হামলা চালায় সৌদি আরব: রয়টার্স
আর/


