জনগণের দোরগোড়ায় সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে আগামী ১৯ থেকে ২১ মে পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে শুরু হচ্ছে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’।
আগামী ১৯ মে সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওস্থ ভূমি ভবনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিভাগীয় সদর, জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়েও একযোগে এ মেলার উদ্বোধন করা হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিকেএমপি অনুবিভাগ থেকে জানা গেছে, এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, আধুনিক ও ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের দ্রুত ও সহজ সেবা নিশ্চিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় দেশের সব বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা ভূমি অফিসে নাগরিকদের বিভিন্ন ধরনের ভূমিসেবা সরাসরি প্রদান করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য নিবন্ধন, হোল্ডিং এন্ট্রি ও অনুমোদন কার্যক্রমে সহায়তা, ই-নামজারির আবেদন গ্রহণ, অনলাইনে খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপি ও মৌজা ম্যাপের আবেদন গ্রহণ এবং ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ।
এ ছাড়া অনলাইনে ডিসিআর ও ই-পর্চা সেবা, ডাকযোগে মৌজা ম্যাপ সরবরাহ এবং ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্তকৃত কৃষি খাস জমির কবুলিয়ত ও দলিল হস্তান্তরের উদ্যোগও থাকবে মেলায়। সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দিতে দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মেলায় ভূমিসেবা পোর্টাল ব্যবহারে নাগরিকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ সহায়তা বুথ স্থাপন করা হবে। এসব বুথে land.gov.bd পোর্টালে নিবন্ধন, ই-নামজারি আবেদন, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট ফি জমা দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন কর শতভাগ অনলাইনে গ্রহণ করা হচ্ছে। এই ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করতে মেলায় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে।
মেলা চলাকালে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অন্তত একটি করে জনসচেতনতামূলক সেমিনার বা সভার আয়োজন করা হবে। এসব অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের চলমান উদ্যোগ, ভবিষ্যৎ ভূমি ব্যবস্থাপনার কর্মপরিকল্পনা, ভূমিসেবা সহজীকরণে গৃহীত পদক্ষেপ এবং ডিজিটাল ভূমিসেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।
পাশাপাশি ভূমিসেবা সংক্রান্ত অভিযোগ বা তথ্য জানার জন্য হটলাইন নম্বর ১৬১২২ এবং ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র (এলএসএফসি) সম্পর্কেও নাগরিকদের সচেতন করা হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য “ভূমি আমার ঠিকানা” শীর্ষক একটি বুকলেটও সরবরাহ করা হবে। এছাড়া ভূমিসেবা বিষয়ক তথ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থাও থাকবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

