বিজ্ঞাপন

২০০ টাকার জন্য অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলায় রোগীর মৃত্যু

২০০ টাকার জন্য অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মৃতের স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্মচারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। গত বুধবার বিকেলে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

নিহত দিপালী সিকদার বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের শংকর সিকদারের স্ত্রী।

নিহতের স্বজনরা সাংবাদিকদের জানান, তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে দিপালীকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত মেডিসিন ইউনিটে স্থানান্তর করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে টানা দুই ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তবে শয্যাসংকট ও অক্সিজেন পয়েন্টের অব্যবস্থাপনার কারণে তাকে একটি ট্রলিতে রেখেই অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল।

দিপালীর ভাই মিলন হাওলাদারের অভিযোগ, দিপালী যখন অক্সিজেনের সহায়তায় বাঁচার লড়াই করছিলেন, তখন মেডিসিন ইউনিট-১-এর কর্মচারী সোহেল সেখানে উপস্থিত হন। পাশের এক রোগীর স্বজনরা ট্রলিটি নেওয়ার জন্য সোহেলকে ২০০ টাকা দেন। এরপর সোহেল দিপালীর অক্সিজেনের লাইন খুলে ট্রলিটি নিতে চান। স্বজনরা বাধা দিলেও তিনি তা শোনেননি। অক্সিজেন খোলার দুই মিনিটের মধ্যেই দিপালীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

দিপালীর মৃত্যুর পর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেলকে মারধর করেন। এ সময় হাসপাতালের অন্য কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

দায়িত্বরত আনসার সদস্য নিঠুর রঞ্জন বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত স্বজনরা সোহেল নামের ওই কর্মচারীকে মারধর করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন।

ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, অভিযুক্ত কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন