গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে “মেসার্স মায়ের দোয়া ট্রেডার্স এন্ড প্রতিশ্রুতি কৃষি ঘর” থেকে কীটনাশক ঔষধসহ ৩০ বস্তা নকল বাংলা টিএসপি সার আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তারা প্রশাসকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে তারা সারসহ ঔষধ জব্দ করেন।
আজ সোমবার দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিয়ান মুনসীফ।
এর আগে গতকাল রোববার বিকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সানারায় ইউনিয়নে ও ব্যবসা কেন্দ্র ওই ইউনিয়নের ছাইতানতোলা বাজারে মেসার্স মায়ের দোয়া ট্রেডার্স এন্ড প্রতিশ্রুতি কৃষি ঘর এর স্বত্বাধিকারী মো. জহুরুল ইসলাম ভুট্টু দোকান থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, জহুরুল ইসলাম ভুট্টু দীর্ঘদিন থেকে ওই এলাকায় নকল সার ও ঔষধ বিক্রি করে আসছে। গতকাল দুপুরে পর ভুট্টুর ঘরে নকল বাংলা টিএসপিসহ ঔষধ তোলার সময় সন্দেহ হলে তারা আটক করে। পরে কৃষি অফিসকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রশাসনসহ আসেন। পরে ঔষধ ও সারগুলো জব্দ করে নিয়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যাক্তি বলেন, “জব্দ করা সারগুলো মো. জহুরুল ইসলাম ভুট্রু ক্রয় করেছিলেন আরেক ব্যবসায়ীর নিকট থেকে। সেগুলো তিনি তার ব্যবসা কেন্দ্রে নেয়ার আগেই আটক দেন স্থানীয়রা। পরে খবর দিলে প্রশাসনের লোক চলে আসেন এবং সেগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যান। এখন প্রশাসনকে ম্যানেজ করার জন্য স্থানীয় বিএনপির নেতাদের মাধ্যমে। যাতে তার বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং নকল ঔষধসহ সারগুলো ফেরত নেওয়ার জন্য।
এ বিষয়ে “মেসার্স মায়ের দোয়া ট্রেডার্স এন্ড প্রতিশ্রুতি কৃষি ঘর” এর স্বত্ত্বাধিকারি মো. জহুরুল ইসলাম ভুট্টু বলেন, গতকাল স্থানীয় বিএনপিরা বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছেন। আমি এ বিষয়ে আর কোন কথা বলতে চাই না।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এস. এম. আসিফ হাসান বলেন, “জব্দ করা মালগুলো আমাদের জিম্মায় আছে। সারগুলো নকল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেগুলো নকল কি না পরীক্ষা করার জন্য ইতোমধ্যে পাঠানোও হয়েছে। নকল ও ভেজাল সার-ঔষধ প্রতিরোধে এধরণের অভিযান অব্যাহত আছে এবং থাকবে । তবে সারগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং কে ক্রয় করেছিলেন সে বিষয়ে তদন্তের কাজ চলছে।”
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিয়ান মুনসীফ বলেন, “এর আগে গত রোববার ঘটনাস্থল থেকে কীটনাশক ঔষধ ও সারগুলো জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সারগুলো নকল কি না বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বলেও জানান সহকারী কমিশনার।
পড়ুন- বড় সংগ্রহ বাংলাদেশের, বিশ্বরেকর্ড গড়ে জিততে হবে পাকিস্তানকে


