এক সময় টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের লড়াই ছিল টিকে থাকার। বড় দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, সেখানে এখন দৃশ্যপট বদলে গেছে অনেকটাই। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে শুধু সিরিজ জেতাই নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিল ও আইসিসি র্যাঙ্কিং; দুই জায়গাতেই নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।
সিলেট টেস্টের পঞ্চম দিনে বুধবার (২০ মে) পাকিস্তানকে ৩৫৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৭৮ রানের দারুণ এক জয় তুলে নেয় টাইগাররা। এর আগে ঢাকায় সিরিজের প্রথম টেস্টেও ১০৪ রানের বড় জয় পেয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
এই সিরিজ জয়ের প্রভাব পড়েছে আইসিসির টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলেও এখন টাইগারদের অবস্থান ঈর্ষণীয়। ঢাকা টেস্টে জিতে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছিল শান্তর দল। দ্বিতীয় টেস্ট জিতে এবার পেছনে ফেললো ভারতকেও।
চার ম্যাচে দুই জয়, এক ড্র ও এক হারে বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ এখন ৫৮.৩৩। সেই সুবাদে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে শান্তর দল। তাদের নিচে নেমে গেছে ভারত। নয় ম্যাচে চার জয়, চার হার ও এক ড্রয়ে ভারতের পয়েন্ট শতাংশ ৪৮.১৫।
একসময় টেস্ট ক্রিকেটের পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত ইংল্যান্ডও এখন বাংলাদেশের পেছনে। ১০ ম্যাচে মাত্র ৩১.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তারা অবস্থান করছে সপ্তম স্থানে। আর সদ্য হোয়াইটওয়াশ হওয়া পাকিস্তানের অবস্থা আরও করুণ। চার ম্যাচে মাত্র এক জয় নিয়ে তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৮.৩৩, অবস্থান আটে।
চলতি চক্রে সবচেয়ে বাজে অবস্থায় আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আট ম্যাচে সাত হার ও এক ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট শতাংশ মাত্র ৪.১৭।
অন্যদিকে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আট ম্যাচে সাত জয় নিয়ে তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৮৭.৫০। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে নিউজিল্যান্ড আছে দ্বিতীয় স্থানে। দক্ষিণ আফ্রিকা রয়েছে তিনে এবং শ্রীলঙ্কা চার নম্বরে।
বাংলাদেশের সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষার মঞ্চ অপেক্ষা করছে। চলমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে টাইগারদের সামনে আছে আরও চারটি সিরিজ। আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ। এরপর অক্টোবরে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আতিথ্য দেবে তারা। নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডকে স্বাগত জানাবে টাইগাররা।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে আরও আটটি টেস্ট ম্যাচ। আর এই ম্যাচগুলোই নির্ধারণ করতে পারে লাল-সবুজের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জনের সম্ভাবনা। কারণ চক্র শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল জায়গা করে নেবে আগামী বছরের জুনে লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে।
স্বপ্নটা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। এই বিশ্বাসটাই এখন নতুন করে জাগিয়ে তুলছে বাংলাদেশের টেস্ট দল।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

